সেতু মেরামতের কারণে আগামী ২২ মার্চ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেন চারদিন বন্ধ রাখা হবে। পরবর্তী সময় আরো কয়েকদিন একলেনে যান চলাচল করবে বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এতে ঈদের ফিরতি যাত্রায় কিছুটা দুর্ভোগের শঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
অবশ্য সড়ক বিভাগ বলছে, এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটি রয়েছে। ঈদ পরবর্তী সড়কে চাপ কম থাকে এবং ভারী যানবাহন বন্ধ থাকে। এ জন্যই মেরামতের জন্য ওই সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সড়ক বিভাগ ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর সেতুর মেরামত কাজ আগামী ২২-৩০ মার্চ পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ২২-২৫ মার্চ চট্টগ্রামমুখী লেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং ২৬-৩০ মার্চ এক লেনে যান চলাচল করবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বিকল্প হিসেবে কয়েকটি সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাসড়কের র্যাব ক্যাম্প সংলগ্ন ইউটার্ন থেকে রামপুর ব্রিজ পরবর্তী ইউটার্ন পর্যন্ত দুই লেনে সাময়িকভাবে একমুখী ব্যবহার, ফতেহপুর স্টারলাইন পাম্প হয়ে সালাউদ্দিন মোড়, ট্রাক রোড, জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল, বিসিক মোড় (গ্যাস কোম্পানি) হয়ে দেওয়ানগঞ্জ মোড়, সালাউদ্দিন মোড়, ট্রাক রোড, জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল এবং মহিপাল শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক হয়ে ট্রাক রোড, জিরো পয়েন্ট হয়ে লালপোল সংযোগ সড়ক।
স্থানীয়দের মতে, এসব বিকল্প সড়কের বেশির ভাগই শহরের অভ্যন্তরীণ এবং যা ভারী যানচলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। এতে শহরের ভেতরে যানবাহনের চাপ বেড়ে যানজটে দুর্ভোগের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে এই মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত রুটগুলোর একটি। এমন সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ বাড়ি ফেরা ও কর্মস্থলে ফিরতে এই সড়ক ব্যবহার করেন। তাই এই সময় লেন বন্ধ থাকলে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, ২০২৪ সালের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই দ্রুত মেরামত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এক লেন দিয়ে যান চলাচল অব্যাহত থাকায় সাময়িক কিছু চাপ থাকলেও বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। ঈদ পরবর্তী সময়েই কাজটি করার উপযুক্ত সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ঈদের পর তিন-চার দিন যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকে এবং ভারী যানচলাচলও সীমিত থাকে। এছাড়া সরকারী ছুটি থাকায় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কম থাকে।