সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকালে চীন

পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

পিপলস রিপাবলিক অব চায়না। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম রাষ্ট্র। ইরান, ভারত, ইনকা, মায়ার মতো প্রাচীন চীনের সভ্যতা। ১৯৪৯ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর এক নতুন চীনের যাত্রা হয়। নানা রকম সংস্কার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম এক পরাশক্তি। জিডিপির হিসাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ফসল নয়া চীন এখন পুঁজিবাদী বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র। ঐতিহাসিক বৈশ্বিক প্রেক্ষিতে চীনের শক্তি-দুর্বলতা, সাফল্য-ব্যর্থতা ধারাবাহিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে লিখেছেন আনু মুহাম্মদ

আগেই বলেছি, তিয়েন আন মেন স্কোয়ারের ঘটনার সময় মিখাইল গর্বাচেভ চীন সফর করছিলেন। তখন গর্বাচেভের নেতৃত্বে সোভিয়েত ইউনিয়নে চলছিল গ্লাসনস্ত (বা উন্মুক্তকরণ) এবং পেরেস্ত্রোইকা (বা পুনর্গঠন) কর্মসূচি। এর মূল কথা ছিল সোভিয়েত অর্থনীতিকে ক্রমান্বয়ে বাজারমুখী করা, ব্যক্তিগত পুঁজি সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানো; আর রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে সেই অনুযায়ী পুনর্গঠিত করা। যেহেতু সে সময় চীনে দেং জিয়াওপিংয়ের নেতৃত্বে অর্থনীতির বাজারমুখী পুনর্গঠনই চলছিল, সেহেতু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই ধারণা ছিল চীন সোভিয়েত ইউনিয়নের যাত্রাপথ অভিন্ন। চীনের নেতাকে পশ্চিমা দেশ সফরকালে চীনের গর্বাচেভ বলা হয়েছে। এর কিছুদিনের মধ্যেই প্রথমে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে কমিউনিস্ট পার্টি শাসন ভেঙে পড়ে, পরে সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যেও সেই একই লক্ষণ দেখা যায়। দেশের খোদ প্রেসিডেন্টই এখানে পরিবর্তন ত্বরান্বিত করছিলেন।

১৯৯০ সালে গর্বাচেভ নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। সোভিয়েত ইউনিয়নে সংকট এবং পতনের ধ্বনিও বাড়তে থাকে। এর কিছুদিনের মধ্যে পার্টির বাম অংশ গর্বাচেভকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। বরিস ইয়েলিসনকে সামনে রেখে পশ্চিম সমর্থিত সামরিক-বেসামরিক আমলা নতুন ধনিক গোষ্ঠী সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে। ১৯৯১ সালের মধ্যেই সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ে, তার পতন হয় এবং ১৫টি ভিন্ন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। ১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর মিখাইল গর্বাচেভ যখন সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট থেকে পদত্যাগ করেন, তখন সেই রাষ্ট্রের আর কোনো অস্তিত্ব ছিল না।

পুঁজিপন্থী বাজারমুখী অর্থনৈতিক সংস্কারে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে চীন অনেক এগিয়ে থাকলেও তার পরিণতি যে একই রকম ঘটেনি তা বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ। পশ্চিমের শাসকদের মধ্যে রকম আশাবাদ দেখা গেলেও এবং তিয়েন আন মেন স্কোয়ারের ঘটনায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে বিশেষ নাড়াচাড়া ঘটলেও দেশের ওপর পার্টি কর্তৃত্ব অটুট থাকে। অবশ্য পার্টি নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন রদবদল দেখা দেয়। চীনের ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিণতির অনেক কারণ আছে। একটি বড় কারণ হলো চীনা পার্টি তার অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন আনছিল তা ছিল পার্টির নেতৃত্বের নিজস্ব হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ধীরগতিসম্পন্ন সুপরিকল্পিত। আর সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পূর্ব ইউরোপে পরিবর্তনের গতি ছিল খুব দ্রুত এবং সেখানে পার্টির কিছু ব্যক্তির বিশেষ উৎসাহী ভূমিকা থাকলেও পার্টির সামগ্রিক কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। পশ্চিমা বিশেষত মার্কিন দক্ষ কুশলী তত্পরতাই সেখানে পার্টির মধ্যে নব্য গোষ্ঠী পুষ্ট করে পরিবর্তনের গতিমুখ নির্ধারণ করেছে।

চীনের জন্য পরিকল্পিত যাত্রাপথ তৈরিতে দেং জিয়াও পিংসহ আরো অনেকের সঙ্গে যে ব্যক্তি বিশেষভাবে কাজ করেছেন তার নাম চেন উন। তিনি ১৯৫৩ সালে চীনের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রধান স্থপতি ছিলেন। মাও সে তুং আমলের মহা উল্লম্ফন পর্বের তিনি বিরোধী ছিলেন। তিনি ভারী শিল্পে বেশি গুরুত্ব দেয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না। আর সাংস্কৃতিক বিপ্লবকালে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন।

১৯৮৯ থেকে পরের কয়েক বছরে পার্টি নেতৃত্বে এবং সংস্কার ধারায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল, দেংয়ের কর্তৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। পার্টির মধ্যে বাজারমুখী ধারার বিরুদ্ধ মত জোরদার হতে থাকে তখন। অবস্থা দেং দেংপন্থীরা দ্রুত সামলে ওঠেন। কোনো আনুষ্ঠানিক পদ-পদবি না থাকলেও দেংয়ের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯২ সালে দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে নতুন অর্থনৈতিক তত্পরতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দেংয়ের সফরের পর বাজারমুখী সংস্কার যাত্রা আরো গতিপ্রাপ্ত হয়। ১৯৯২ সালে চীন দামনীতি এবং ১৯৯৪ সালে করনীতি সংস্কার করার পর ৯০ দশকের মাঝামাঝি সময় অনেকগুলো বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মাত্রায় ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয়।

২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যভুক্ত হয় চীন। ততদিনে বাজার অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য চীন সংস্থার সব শর্ত পূরণ করেছে। বাজার অর্থনীতির গতি সঞ্চারে আঞ্চলিক বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। চীনের ৩২টি প্রদেশ, ২৮২টি পৌরসভা, হাজার ৮৬২টি কাউন্টি, ২০ হাজার শহর, প্রায় ১৫ হাজার গ্রাম নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে ভূমিকা রাখে।

চীনের প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতির যাত্রাকে প্রশংসা করে নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ রোনাল্ড কোয়াস এবং তার সহলেখক নিং ওয়াং চীনকে একবিশাল ল্যাবরেটরিহিসেবে আখ্যায়িত করেন, যেখানে বহু অর্থনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে সফলভাবে। তাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে যে নিজের ইতিহাস বিশ্বায়নকে একই সঙ্গে গ্রহণ করে চীন পুঁজিবাদে মাত্র যে যাত্রা শুরু করল তা অন্য দেশের তুলনায় ভিন্ন হবে। এটি শুধু যে চীনের জন্যই কাঙ্ক্ষিত তা নয়, তা পুরো বিশ্বব্যবস্থার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

এককেন্দ্রিক বিশ্বে চীনের অর্থনৈতিক সংস্কারের গতিপথ

১৯৯০ দশকের শুরুতেই সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র সাম্রাজ্যিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, পুঁজিবাদের একক বৈশ্বিক ব্যবস্থার পথ নিশ্চিত হয়। একেগণতন্ত্রের বিজয়হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্যাপক প্রচার করা হলেও দেশে দেশে দেখা দিতে থাকে ভিন্ন যাত্রা। দেখা যায়, এর মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের অগণতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক, বর্ণবাদী, নিপীড়ক, যুদ্ধবাজ শক্তিগুলোরই মতাদর্শিক বিজয় সূচিত হয়েছে, তাদের জন্য এতদিনকার মতাদর্শিক শারীরিক বাধা পরাজিত হয়েছে। এককেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থার আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে শুধু যে পুঁজিবাদ সাম্রাজ্যবাদের পুনরুজ্জীবন ঘটেছে তা- নয়, বৈষম্য নিপীড়নের নানারূপ আরো জোরদারভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নতুন উদ্যমে বিশ্বব্যাপী ঝাঁপিয়ে পড়েছে যুদ্ধবাজ গণবিরোধী সব ধরনের শক্তি।

অন্যদিকে পরিস্থিতিতে দেশে দেশে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল বিপ্লবী শক্তিগুলোও দিশেহারা অবস্থায় পতিত হয়। বাংলাদেশে পিকিংপন্থীরা আগেই ছিন্নভিন্ন হয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো মস্কোপন্থীদের বিপর্যয় ঘটল ব্যাপকভাবে। দেখা গেল ধারার অনেকেরই নতুন উপলব্ধি। তারা বলতে শুরু করলেন, ‘মার্ক্সবাদ ভুল’, ‘লেনিনবাদ ভুল’, ‘বিপ্লব একটা ভুল চিন্তা’, ‘প্রযুক্তির বিকাশের মধ্য দিয়ে পুঁজিবাদও শোষণহীন ব্যবস্থা হিসেবে দাঁড়াচ্ছেএবংসমাজতন্ত্র একটি অসম্ভব অবাস্তব প্রকল্পইত্যাদি। ছিন্নভিন্ন সমাজতন্ত্রী বিপ্লবীদের অনেকেই বসে পড়লেন, অনেকে যোগ দিলেন শত্রু শিবিরে।

অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে যুদ্ধ অর্থনীতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য পুঁজিবাদী বিশ্ব ব্যবস্থা এবং এর কেন্দ্র রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রও নতুন এক সমস্যার মুখোমুখি হলো। প্রতিপক্ষ বা শত্রু না থাকলে যুদ্ধ অর্থনীতির যৌক্তিকতা দাঁড় করানোর কোনো উপায় থাকে না। আর যুদ্ধ আর দখলের ব্যবস্থা ছাড়া পুঁজিবাদেরও টিকে থাকার পথ নেই। সংকট থেকে উদ্ধারের পথ সৃষ্টি হলো মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন যুদ্ধ ফ্রন্ট বানানোর মধ্য দিয়ে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরপরই ১৯৯১ সালে ইরাক আক্রমণ দিয়ে এর শুরু, ২০০১ সালেসন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধমন্ত্র দিয়ে পুরো পৃথিবীকেই যুদ্ধের ময়দানে পরিণত করা হয়েছে। যুদ্ধ অর্থনীতিরও বিস্তার ঘটেছে আগের তুলনায় বেশি।

বিশ্ব ব্যবস্থায় এসব পরিবর্তনে চীন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিকভাবে তার যাত্রাপথে কোনো পরিবর্তন আনেনি। এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে কোনো অবস্থানও গ্রহণ করেনি। বরং নানাভাবে এর সঙ্গে সমন্বয় করতে চেষ্টা করেছে, পরিবর্তিত ব্যবস্থার সঙ্গে মানানসই হিসেবেই নিজেকে সজ্জিত করতে চেষ্টা করেছে। আর সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে এককেন্দ্রিক শক্তির সঙ্গে দরকষাকষির ক্ষমতা যে কমে গেছে তা চীন টের পেয়েছে প্রথম থেকেই।

সত্তরের দশকের প্রথম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করায় চীনের আগ্রহ ছিল প্রধানত সোভিয়েত ইউনিয়নের বৈরিতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য। আর চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রভাববলয় শক্তিশালী করার জন্য। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে সমীকরণ অকার্যকর হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র হয়ে দাঁড়ায় বিশ্ব ব্যবস্থার অপ্রতিরোধ্য একক কেন্দ্র। এতে চীনের উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। তিয়েন আন মেনের পর অবরোধ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে কর্তৃত্ব বিস্তারের পথ বেছে নিয়েছিল, তা এরপর আরো শক্তিশালী হয়। চীনের তখন কূটনৈতিকভাবে এর ফয়সালা করাও দুরূহ ছিল। সামরিক বা রাজনৈতিকভাবে নতুন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য চীনা নেতৃত্ব কোনোভাবেই প্রস্তুত বা ইচ্ছুক ছিল না। তখন একমাত্র পথ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে তার ওপর নির্ভরশীল করে তোলার মতো অবস্থায় পৌঁছানো। সেভাবেই অগ্রসর হয়েছে চীন।

চীন যে অবরোধ তোলার জন্য ১৯৯০ সাল থেকে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করে, তার কিছু প্রামাণ্য বিবরণ দিয়েছেন হেনরি কিসিঞ্জার তার চীন নিয়ে লেখা পূর্বোক্ত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তখন সিনিয়র বুশ, তার কাছে পাঠানো এক মৌখিক বার্তায় চীনা নেতারা বলেন,

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চীনা জনগণ বিদেশী শক্তির আধিপত্য এবং হয়রানির মধ্যে কাটিয়েছে। আমরা চাই না সেই জখম আবার উন্মুক্ত হোক। পুরনো বন্ধু হিসেবে আশা করি আপনি চীনা জনগণের অনুভূতি বুঝতে পারবেন। চীন-যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতামূলক সম্পর্ক, যা প্রতিষ্ঠা করা খুব সহজ ছিল না, তাকে চীন সবসময়ই গুরুত্ব দেয়, একই সঙ্গে আরো বেশি গুরুত্ব দেয় এর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব মর্যাদাকে। বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে আর বিলম্ব না করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা আরো জরুরি।...’

ধারাবাহিক দেনদরবারের পর মার্কিন প্রশাসন অনানুষ্ঠানিকভাবে হলেও বিশেষত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে, অবরোধ শিথিল করে। ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন একটি ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। ক্লিনটন তার প্রচারাভিযানের সময় বুশ প্রশাসনের সমালোচনায় চীনের প্রতি নমনীয়তাকেও উল্লেখ করেছিলেন। ক্লিনটন বলেছিলেন,

একদিন চীনও পূর্ব ইউরোপ সোভিয়েত ইউনিয়নের পথেই যাবে। সেই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে যা করা উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাই করতে হবে।

প্রকৃতপক্ষে মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে চীনপন্থী এবং চীনবৈরী দুটো প্রবণতাই আছে। বলাই বাহুল্য, এর সঙ্গে চীনে মার্কিন ব্যবসায়িক স্বার্থের সম্পর্ক প্রত্যক্ষ। [চলবে]

 

আনু মুহাম্মদ: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

আরও