ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২টি পশুর হাট বসেছে। তবে হাটে বেচাবিক্রি গতকাল পর্যন্ত জমে ওঠেনি। ক্রেতা-বিক্রেতারা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এবার ছাগল-ভেড়ার চাহিদা বেড়েছে। তবে চাহিদা বাড়লেও কোরবানিযোগ্য ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা এবার বাড়েনি; বরং গতবারের চেয়ে প্রায় ৭২ হাজার কমেছে। রাজধানীর ২২টি হাটের মধ্যে দুটি স্থায়ী, বাকি ২০টি অস্থায়ী। ১০টি হাট পড়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায়। বাকিগুলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি, যা গতবারের চেয়ে অন্তত ৪ লাখ ৪৪ হাজার বেশি। এবার কোরবানিযোগ্য গরু-মহিষ রয়েছে ৫৩ লাখ ৬০ হাজার ৭৯৬টি। ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ৭৬ লাখ ১৭ হাজার ৮০১। আর উটসহ কোরবানিযোগ্য অন্যান্য পশু রয়েছে ১ হাজার ৮৫০টি। এ বছর চাহিদার চেয়ে ২২ লাখ ৭৭ হাজার ৯৭৩টি পশু বেশি রয়েছে।
এদিকে গতবার দেশে কোরবানিযোগ্য গরু-মহিষের সংখ্যা ছিল ৪৮ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫২। ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা ছিল ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ৮০। সে হিসাবে এবার ছাগল-ভেড়ার সংখ্যা প্রায় ৭২ হাজার কমেছে।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর ছাগলের চাহিদা গতবারের চেয়ে বেশি। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অবস্থিত আমিষ এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান বিল্লাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ বছর আমার ৯০টি ছাগল ছিল। প্রায় সবই বিক্রি হয়ে গেছে। তবে গরু এখনো অর্ধেকের মতো অবিক্রীত রয়ে গেছে। অন্যান্য ঈদে আগের দিন পর্যন্ত ছাগল বেচাকেনা চলত। কিন্তু এবার প্রায় এক সপ্তাহ আগেই সব ছাগল শেষ হয়ে গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ এবার ছাগলের দিকে ঝুঁকেছে।’ ডিএসসিসি এলাকার পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন উন্মুক্ত জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের খালি জায়গা, উত্তর শাজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর কদমতলী ট্রাক স্ট্যান্ড, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজসংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন ও বিশ্বরোডসংলগ্ন লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব এলাকার আশপাশের খালি জায়গা।
ডিএনসিসির হাটগুলো বসেছে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন খালি জায়গায়, ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কানচুকুরা বেপারিপাড়া রহমান নগর আবাসিক এলাকা, খিলক্ষেতের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্তুল চেকপোস্ট এলাকা, ভাটারার সুতিভোলা খালসংলগ্ন এলাকা, উত্তরার ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের বউবাজার এলাকা, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা ও মোহাম্মদপুরের বসিলার ৪০ ফুট রোডের খোলা জায়গা।
গতকাল পোস্তগোলা শ্মশানঘাট হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরু ও ছাগল আসা শুরু হয়েছে। বগুড়া থেকে গরু নিয়ে এসেছেন আসলাম ব্যাপারী। তিনি বলেন, ‘এখনো হাট জমেনি। পুরোদমে হাট জমতে আরো দুই-তিন দিন সময় লাগবে।’
রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকার হাটে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। আরিফুল হক নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘গরুম দাম অনেক বেশি। আরো দু-একদিন দেখব। দামে মেলাতে না পারলে ছাগল কোরবানি দেব।’
আবির হাকিম নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গরু কোরবানি দেয়া আমাদের মতো মধ্যবিত্তের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বছর একটি খাসি কোরবানি দেয়ার নিয়ত করেছি।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর কোরবানি হয় ৪৬ লাখ গরু। প্রায় পাঁচ লাখ পশু অবিক্রীত থাকে। অন্যদিকে গত বছর ছাগল বিক্রি হয় ৫০ লাখের মতো।
বগুড়ার খামারি মোহাম্মদ বিপ্লব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গত বছর এ সময়ে আমার খামারের গরু বিক্রি শেষদিকে ছিল। এ বছরের চিত্র ভিন্ন। এখন পর্যন্ত বেচাকেনা জমে ওঠেনি। এ বছর অনেক গরু অবিক্রীত থেকে যেতে পারে।’