চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মাগুরায় আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়। ২৭ এপ্রিল তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
তবে হিটু শেখ এর আগে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও গতকাল আদালতে তিনিসহ সব আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে। এজন্য লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের পরামর্শ দেন বিচারক। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুলসহ অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। মামলাটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় অ্যাটর্নি জেনারেলের সমমর্যাদাপ্রাপ্ত আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীকে। তিনি শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে এহসানুল হক সমাজী সাংবাদিকদের জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও অন্যান্য নথির ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
মামলায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের স্বার্থে বিচারক আসামিদের বলেছেন, তারা চাইলে নিজেদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। আইনজীবী নিয়োগ করতে হলে কারাবিধি অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। ওই ঘটনার দায় স্বীকার করছেন কিনা, বিচারক জানতে চাইলে আসামিরা অপরাধে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।
অবশ্য ১৫ মার্চ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সব্যসাচী রায়ের আদালতে হিটু শেখ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি আদালতকে বলেন, ‘৬ মার্চ সকালে শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) ধারায় (ধর্ষণের ফলে মৃত্যু) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে বোনের স্বামী ও ভাসুরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার দ্বিতীয় অংশে (ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে ২০১ ধারায় (অপরাধের আলামত নষ্ট) অভিযোগ গঠন করা হয়।
এর আগে ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগ দাখিল করে পুলিশ। পরে ১৭ এপ্রিল মামলাটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয় এবং ২০ এপ্রিল অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়।
গত ৬ মার্চ মাগুরা সদরের নান্দুয়ালী প্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যায় সে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।