শ্রম সংস্কার কমিশন প্রধান

কৃষি জমিতে রিসোর্ট গড়ে উঠছে এ বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে

তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে শ্রমিকের মধ্যে বৈষম্য অনেক প্রকট। এজন্য সম্মিলিত প্রয়াস ও সম্মিলিত চার্টার দরকার যাকে কেন্দ্র করে সম্মিলিত আলোড়ন গড়ে তুলতে হবে। অটোমেশনের প্রভাবে শ্রমিকের জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, কৃষি পণ্যের অবমূল্যায়ন করে শিল্পের প্রভাব বিস্তার হচ্ছে, কৃষি জমিতে রিসোর্ট গড়ে উঠছে এ বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ বলেছেন, জাতীয় পর্যায়ে এ প্রথম মাঠ পর্যায়ে কৃষি শ্রমিকের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। শুধুই কৃষি শ্রমিকদের নিয়ে এবং সামগ্রিক কৃষি খাত নিয়ে আলাদা কমিশনসহ ভূমি সংস্কার নিয়ে সুপারিশ থাকবে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে শ্রমিকের মধ্যে বৈষম্য অনেক প্রকট। এজন্য সম্মিলিত প্রয়াস ও সম্মিলিত চার্টার দরকার যাকে কেন্দ্র করে সম্মিলিত আলোড়ন গড়ে তুলতে হবে। অটোমেশনের প্রভাবে শ্রমিকের জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, কৃষি পণ্যের অবমূল্যায়ন করে শিল্পের প্রভাব বিস্তার হচ্ছে, কৃষি জমিতে রিসোর্ট গড়ে উঠছে এ বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

আজ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন কৃষি শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শ্রম সংস্কার কমিশনের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শ্রম ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় ড. জাকির হোসেন, সাকিল আখতার চৌধুরী, আনোয়ার হোসেন, রাজেকুজ্জামান রতন, তাসলিমা আখতারসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কৃষি শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সভাপতি বজলুর রশীদ ফিরোজ ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আলম মিঠু, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয় কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক আশেক-ই-এলাহী, বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিমসহ অন্যান্য নেতারা।

বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সামগ্রিক কৃষি খাতের সংস্কার ও কৃষিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। কৃষি শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আশেক-ই-এলাহী বলেন, কৃষি, মৎস্য, হর্টিকালচার, লাইভস্টক ইত্যাদি খাতে কৃষি শ্রমিকদের স্বতন্ত্র সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা প্রদান করতে হবে এবং শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ করতে হবে।

আব্দুল আলিম বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণে অনিয়ম দূর করে কৃষকদের জন্য সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করা দরকার।

সভায় বক্তারা গ্রামীণ কৃষকদের স্বীকৃতি এবং ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানান এবং কৃষি শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকের রাসায়নিক সার ব্যবহারজনিত বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারিভাবে চিকিৎসার সুব্যবস্থা, বজ্রপাতে প্রতি বছর কৃষক, শ্রমিকের অমানবিক মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবি লিখিত আকারে পেশ করেন।

আরও