গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার একমাত্র মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকার মাছের পোনা উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয় মৎস্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে ১২৭ কেজি রেণু পোনা, কার্প জাতীয় মাছের পোনা ১ হাজার ৩৯১ কেজি ও ১ লাখ পাবদা মাছের পোনা রয়েছে।
মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের পুকুর ও হ্যাচারিতে নিবিড় তত্ত্বাবধানে এসব মাছের গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন করা হয়। তারপর ১২৭ কেজি রেণু ২ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। ১ হাজার ৩৯১ কেজি কার্পজাতীয় পোনা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি করা হয়েছে। এক লাখ পাবদা মাছের পোনা ২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া খামারের ফলমূল ও শাকসবজি বিক্রি করে আয় হয়েছে আরো ২০ হাজার টাকা। গত অর্থবছরে সর্বসাকুল্যে এ খামার থেকে আয় হয়েছে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮০০ টাকা। আয়ের সমুদয় টাকা সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে জমা দেয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের মৎস্যচাষী হাবিবুল বাহার বলেন, ‘১৫ বছর ধরে মাছের চাষ করছি। গোপালগঞ্জ মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার থেকে সরকার নির্ধারিত সাশ্রয়ী মূল্যে মাছের পোনা সংগ্রহ করে পুকুরে মাছের চাষ করি। এতে উৎপাদন ভালো হয়। এ পোনা মারা যাওয়ার হারও কম। বছর শেষে এগুলো প্রত্যাশিত হারে বাড়ে। ওই খামারে পোনার মান খুবই ভালো। মানসম্মত পোনার চাষ করে আমি লাভের মুখ দেখে আসছি।’
একই উপজেলার কাজুলিয়া গ্রামের মৎস্যচাষী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গোপালগঞ্জ সরকারি মৎস্য খামার থেকে মাছের পোনা কিনে কেউ কোনোদিন প্রতারিত হয়নি। এখানকার পোনা চাষের জন্য উপযোগী। কিন্তু চাহিদার তুলনায় তারা পোনা সরবরাহ করতে পারে না। তাই এ খামারে পোনার উৎপাদন আরো বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।’
গোপালগঞ্জ মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক তানজিলা আক্তার নিপা বলেন, ‘আমাদের খামারের আয়তন ১ দশমিক ৬২ হেক্টর। এখানে আটটি পুকুর ও একটি হ্যাচারি রয়েছে। চারটি পুকুর পোনার মজুদ পুকুর হিসেবে ব্যবহার হয়। অন্য চারটিতে ব্রুড মাছ সারা বছর সংরক্ষণ করা হয়। ব্রুড থেকে ডিম সংগ্রহ করে আমাদের নিজস্ব হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন করি। পোনা উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই এ খামার থেকে সঠিক সাইজ ও মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন হয়ে আসছে। এখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পোনা বিক্রি করা হয়। এ পোনা নিয়ে চাষাবাদ করে মৎস্যচাষী লাভবান হয়ে আসছেন।’