বাংলাদেশের তাঁত শিল্পের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করে জামদানিকে বিশ্ববাজারে বিশেষায়িত উচ্চমূল্যের পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, দেশীয় ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের প্রদর্শনী ও মেলা। এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বস্ত্রমন্ত্রী বলেন, জামদানিকে সাধারণ সাশ্রয়ী পণ্য হিসেবে বাজারে নেয়ার সুযোগ নেই। এর সম্ভাবনা মূলত বিশেষায়িত পণ্য হিসেবে। তাই এটিকে উচ্চমূল্যের পণ্য হিসেবেই বিশ্ববাজারে উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি জানান, সাধারণ হস্তচালিত তাঁতকে যন্ত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামানো বাস্তবসম্মত নয়। গ্রামের তাঁতিদের মেশিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামানো ঠিক হবে না। মানুষের হাতের নিপুণ কারুকাজই জামদানির মূল শক্তি এবং এ দক্ষতাই এর উচ্চমূল্যের ভিত্তি।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ববাজারে জামদানির জন্য আলাদা ক্রেতা শ্রেণি তৈরি করতে হবে। এজন্য বৈশ্বিক অনলাইন বাণিজ্য প্লাটফর্ম ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে জামদানিকে আরো বিস্তৃতভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন বিশেষ অতিথি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারী ও তাঁতিদের প্রতি আন্তরিক ছিলেন এবং তাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি চালু করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, ২০১৯ সালে সোনারগাঁওকে বিশ্ব কারুশিল্প নগরী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার অভিজ্ঞতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, এত সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এখনো আন্তর্জাতিক মানের কোনো বস্ত্র ও তন্তু জাদুঘর গড়ে ওঠেনি। প্রতিটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলে বিশেষায়িত শিল্পগ্রাম গড়ে তোলা এবং সৃজনশীল পর্যটনের বিকাশে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ভবনের দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় আয়োজিত এ প্রদর্শনী ও মেলা আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
মেলায় ঢাকাই মসলিনের সুতা তৈরি ও বুনন প্রক্রিয়ার প্রদর্শনী রাখা হয়েছে। প্রায় ১৫০ বছর পুরনো জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়িও প্রদর্শিত হচ্ছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত বিভিন্ন তাঁতসামগ্রী এবং রেশমের জীবনচক্র ও সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নথিপত্রও সেখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া মেলায় প্রান্তিক তাঁতিদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিক্রির জন্য জামদানি, কাতান, মণিপুরি ও টাঙ্গাইল শাড়ি এবং পাবনা ও সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি ও গামছাসহ মোট ১৫টি স্টল রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য ও অতিরিক্ত সচিব মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।