উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা বাসিন্দাদের নিরাপদে আশ্রয় নেয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করেছে প্রশাসন। গতকাল বিকালে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের কর্মকর্তারা যৌথভাবে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করেন।
রাঙ্গামাটি সদর, পৌরসভার ভেদভেদী পশ্চিম মুসলিমপাড়া, শিমুলতলী ও রূপনগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক মাইকিং কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করা, ভারি বর্ষণের সময় নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শেখ সালমান বলেন, ‘বৃষ্টিপাতের কারণে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বাস করা বাসিন্দাদের নিরাপদে আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে রূপনগর, শিমুলতলী ও মুসলিমপাড়া এলাকায় মাইকিং করা হয়।’
অন্যদিকে রাঙ্গামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্য চি নু মারমা বলেন, ‘শনিবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটিতে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।’
এর আগে ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙ্গামাটি জেলায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর পরের বছর ২০১৮ সালে জেলার নানিয়ারচরে পাহাড়ধসে ১১ জনের মৃত্যু। এছাড়া বিগত বছরগুলোয় পার্বত্য চট্টগ্রামে ক্রমান্বয়ে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঘটছেই।