নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পয়োনিষ্কাশনে সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নাগরিকরা নিজেদের জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করলে বাসযোগ্য ও সুন্দর ঢাকা গড়া সম্ভব। এর মাধ্যমে টেকসই ঢাকা গড়ে উঠবে। এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
গতকাল বিকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত ‘উপযুক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের অধিকারকেন্দ্রিক সংস্কার’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।
ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেনের সভাপতিত্বে নাগরিক সংলাপে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি নগরায়ণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া রাষ্ট্র। দেশের শতকরা ৪০ শতাংশ মানুষ নগরে বাস করে। এসব মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পরিবেশ দূষণ। সেটি হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণে। দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৫ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে। যার ৫৫ শতাংশ সঠিক ব্যবস্থাপনার বাইরে। শুধু ঢাকায় প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। কিন্তু সেগুলোকে যথাযথ ব্যবস্থাপনায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য বাংলাদেশ পরিবেশ সুরক্ষা আইন ১৯৯৫-এর অধীনে বাংলাদেশ কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ বিদ্যমান থাকলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও কার্যকর না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না।’
বক্তারা আরো বলেন, ‘নগরকে পরিচ্ছন্ন করে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যথাযথ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এর জন্য সরকার একা কাজ করতে পারবে না। প্রয়োজন নাগরিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ। আমরা যদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সহযোগিতা করতে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জন করতে পারি এবং বর্জ্যকে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর দিতে পারি তাহলে এটি সম্ভব হবে।’
সংলাপে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘দক্ষিণ সিটিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশনে মোট তিনটি ধাপে আমরা কাজ করছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথ না হওয়ার পেছনে জনসচেতনতাও দায়ী।’
প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সরকারি, বেসরকারি সংস্থা ও সংগঠন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেজন্য নাগরিক সচেতনতা জরুরি। শহর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। টেকসই সমাধানের জন্য শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি। এজন্য স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতকে আরো সক্রিয় হতে হবে।’
আহমাদ ইব্রাহীমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত শবনম, মিউনিসিপ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক মারুফুল ইসলাম, বেলার সিনিয়র আইনজীবী এস হাসানুল বান্না, পরিবেশ আন্দোলনকর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনরা।