এক মাসের ব্যবধানে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আবারও অগ্নিকাণ্ডেরর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার মাঝরাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতালে থাকা রোগী ও কর্মরর্তাদের মধ্যে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত ১টার পর রমেক হাসপাতালের নীচ তলার প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন বিদ্যুতের প্রধান সঞ্চালন বোর্ডে (এমডিবি) অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি নজরে এলে হাসাপাতালের কর্মচারীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করেন। ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। পরবর্তীতে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দেন।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার মো. বাদশা মাসুদ আলম বলেন, খবর পেয়ে রাত সোয় একটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। হাসপাতাল কর্মীরা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করায় এবং বিদ্যুতের সাব স্টেশন বন্ধ করে দেয়ায় বড় ধরনের দুঘর্টনা থেকে রক্ষা পায় হাসপাতাল।
তিনি বলেন, আগুন নেভানোর আগে একটি এমডিবি বোর্ড পুড়ে যায়। বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারনা করেন তিনি।
রমেক হাসপাতালের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন তদারকির দায়িত্বে থাকা রংপুর গণপূর্তের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোছা. রাজিয়া সুলতানা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর হাসপাতাল চত্বরে থাকা বিদ্যুতের সাবস্টেশনটি দ্রুত বন্ধ করে দেই। ফলে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। ঘরটিতে মোট ৩২টি এমডিবি ছিলো।
তিনি বলেন, রমেক হাসপাতালের পাঁচতলা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালনকারী বেশির ভাগ তারের বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছর। ফলে পুরনো জরাজীর্ণ তারের জন্য প্রায়ই দুঘর্টনা ঘটছে।
রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রেজাউল করিম বলেন, সময়মতো আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ ডিসেম্বর সকালে রমেক হাসপাতালের ৩ তলার ৭নং ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিলো। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে স্তূপ করে রাখা ৪০টি ম্যাট্রেস (তোষক), মানসিক ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি বেডের তোষক এবং চিকিত্সকদের রুমের দুটি এসি, ১টি ল্যাপটপ এবং ১টি কম্পিউটারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বই পুড়ে যায়।