আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা

বাংলাদেশে গণহত্যাকে স্বীকৃতি না দেয়া অস্বীকারের শামিল

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন এ দেশের মানুষের ওপর বর্বরোচিত অত্যাচার-নির্যাতন চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ প্রায় সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পর কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর পরিচালিত সেই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করছে দেশী-বিদেশী বেশ কয়েকটি সংগঠন ও সুশীল সমাজের সদস্যরা। এরই অংশ হিসেবে

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন এ দেশের মানুষের ওপর বর্বরোচিত অত্যাচার-নির্যাতন চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ প্রায় সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে। স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী পর কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর পরিচালিত সেই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দাবি করছে দেশী-বিদেশী বেশ কয়েকটি সংগঠন ও সুশীল সমাজের সদস্যরা। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ‘‌বাংলাদেশ জেনোসাইড বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন-২০২৩’ আয়োজন করা হয়। ‘আমরা একাত্তর’, ‘ইউরোপিয়ান ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘প্রজন্ম ৭১’-এর উদ্যোগে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়। 

বক্তারা বলেন, ‘‌পাকিস্তান একটি জেনোসাইডাল জাতি। তারা প্রথম গণহত্যা সংঘটিত করে বেলুচিস্তানে, পরে জর্ডানে ও বাংলাদেশে। বাংলাদেশের জেনোসাইডের স্বীকৃতির জন্য আমাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আমরা জেনোসাইডের স্বীকৃতি চাই, আমরা ন্যায়বিচার চাই। গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের লড়াই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্ব। এ লড়াইয়ে আমরা সমবেত করব এদেশের জনগণকে। একটি গণহত্যাকে যখন স্বীকৃতি না দেয়া, তা অস্বীকার করার শামিল। জেনোসাইড অস্বীকার করলে জেনোসাইডের পুনরাবৃত্তি ঘটে। যেটা আমরা মিয়ানমার মধ্যপ্রাচ্যে দেখতে পাচ্ছি।’

আমরা একাত্তরের চেয়ারপারসন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক ডাচ এমপি ও মানবাধিকারকর্মী হ্যারি ভ্যান বোমেল, নেদারল্যান্ডসের ভ্রিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ্যানথনি হলসল্যাগ, যুক্তরাজ্যের সিনিয়র সাংবাদিক ক্রিস ব্ল্যাকবার্ন, পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত সুইডিশ বিচারপতি সৈয়দ আসিফ শাহকার, ১৯৭১: গণহত্যা ও নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, জেনোসাইড গবেষক লে. কর্নেল কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবীর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব হারুন হাবীব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আমরা একাত্তরের প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ফয়েজী ও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃণাল সরকার, ইউরোপীয় বাংলাদেশ ফোরামের (ইবিএফ) যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি আনসার আহমেদ উল্লাহ, ইবিএফ নেদারল্যান্ডস শাখার সভাপতি বিকাশ চৌধুরী বড়ুয়া, শহীদ সন্তান ও জেনোসাইড গবেষক প্রদীপ কুমার দত্ত এবং তৌহিদ রেজা নূর প্রমুখ। 

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার চিত্র তুলে ধরে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘‌এই ন্যক্কারজনক গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করতে হবে। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল গণহত্যার মূলকেন্দ্র। পৃথিবীর ইতিহাসে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের নৃশংস গণহত্যার নজির নেই। দেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা এই গণহত্যায় সহযোগিতা করেছিল।’ এ সময় বাংলাদেশে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে সম্মেলন আয়োজন করায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

আরও