তাদের দাবীকৃত ৬০ লাখ টাকা দিলেও জীবন রক্ষা হয়নি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার যুবক সোহাগ মুন্সীর। এমনটাই দাবি করেছে নিহতের পরিবার। নিহতের স্বজনদের দাবি, আরো ২৭ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় গুলি করে হত্যার পর গুম করা হয়েছে সোহাগের মরদেহ।
সোহাগ মুন্সীর মৃত্যুর খবর শুনে আহাজারিতে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। মুক্তিপণ দাবি ও নির্যাতনের ঘটনায় সোহাগ মুন্সীর পরিবার মামলা করলে অভিযুক্ত এক দালালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মানব পাচারকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ প্রিয় সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিহত সোহাগ মুন্সী মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে। জানা গেছে, শুধু সোহাগই নয়, এখনো লিবিয়ায় মানব পাচারকারী মাফিয়াদের হাতে জিম্মি রয়েছে আরো ১১ যুবক।
নিহতের পরিবার ও স্বজনরা জানান, ঢাকায় রঙ মিস্ত্রির কাজ করতেন সোহাগ মুন্সী। ইতালি গিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের আসায় স্থানীয় মানব পাচারকারী দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের খপ্পরে পড়েন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী তাদের হাতে ২২ লাখ টাকা তুলে দিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাড়ি ছাড়েন সোহাগ। প্রথমে তাকে সৌদি আরব ও পরে লিবিয়ার ত্রিপলি নিয়ে বন্দি করে চালানো হয় নির্যাতন। সে ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে কয়েক ধাপে আরো ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র। একপর্যায়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আরো ২ লাখ টাকা নিলেও সোহাগকে ফেরত পাঠায়নি তারা। ২৩ জুলাই দাবি করা হয় আরো ২৭ লাখ টাকা। পরের দিন সকাল ৮টার মধ্যে দাবি করা টাকা দিতে না পারায় সোহাগকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী মাফিয়ারা। এ খবর গত বুধবার জানাজানি হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, প্রতিবেশী দালাল ময়না আক্তার মজুমদারকান্দি গ্রামের মুকুম শেখের স্ত্রী এবং মানব পাচারকারী মাফিয়া জুলহাস সরদার রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘এ ঘটনায় গত বুধবার রাতেই নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এরই মধ্যে প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’
মাদারীপুর সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ ঘটনায় গত বুধবার রাতেই নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এরইমধ্যে প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে মূল হোতাদের অধিকাংশই দেশের বাইরে থাকায় ধরা সম্ভব হচ্ছে না।’