কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভাঙনের তীব্রতা। এক সপ্তাহে মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া, বহলবাড়িয়া ও বারুইপাড়া ইউনিয়নে ১০০ একরের বেশি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মীর আব্দুল করিম কলেজ ও মির্জানগর কবরস্থানসহ বেশকিছু স্থাপনা। কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কটিও হুমকির মুখে রয়েছে। নদীতীরে জিও ব্যাগ দিয়েও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। জিও ব্যাগসহ নদীর পাড় ও গ্রাম রক্ষা বাঁধ এরই মধ্যে ভেঙে গেছে।
ত্রিশোর্ধ্ব চামেলী ১১ বছর আগে যখন স্বামীর ঘরে আসেন, তখন তার বাড়ি থেকে পদ্মা নদীর দূরত্ব ছিল প্রায় দুই হাজার ফুট। ১১ বছরের ব্যবধানে এবার তার বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। দুই সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন বারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের কাছাকাছি একটি সরকারি জমিতে। স্বল্প আয়ের সংসারে নতুন করে জমি কিনে ঘর তৈরি করা তার জন্য বেশ কঠিন।
চামেলীর মতো বারুইপাড়া ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামে বাস্তুহারা হয়েছেন আরো পাঁচজন। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো ১৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি। তাদের একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী আলমগীর হোসেন মৃধা। তিনি জানান, ওই গ্রামে তার পৈত্রিক ভিটা। বাবা মারা গেছেন প্রায় ২৬ বছর আগে। যেভাবে নদী ভাঙছে তাতে এক মাসের মধ্যে পৈত্রিক ভিটা বিলীন হয়ে যাবে।
মিরপুর উপজেলার তিন ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন নতুন নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই ভাঙন চলে আসছে। থেমে থেমে ভাঙন দেখা দিলেও এ বছর তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকে চলে গেছেন অন্যত্র। কেটে নিয়ে গেছেন নদীপাড়ের গাছপালা। এ কারণে তালবাড়িয়া, বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবনগর, বারুইপাড়া ইউনিয়নের মির্জানগরে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা দ্রুত ভাঙনের কবলে পড়ছে।
বারুইপাড়া ইউনিয়নের মির্জানগরে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে মীর আব্দুল করিম কলেজ, মির্জানগর কবরস্থানসহ অনেক স্থাপনা। কয়েক মিটার দূরেই কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কটিও ঝুঁকিতে রয়েছে।
মির্জানগর কবরস্থান কমিটির কোষাধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে পদ্মার যে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, তা কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় চলে এসেছে। অচিরেই কবরস্থান নদীতে চলে যাবে। পাশেই রয়েছে একটি কলেজ। সেটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।’
সাহেবনগর এলাকার মওদুদ আহমেদ রাজিব বলেন, ‘কোনোভাবেই ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে প্রতিদিন জিও ব্যাগ ফেলা হলেও লাভ হচ্ছে না। জিও ব্যাগসহ নদীর পাড় ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ এরই মধ্যে ভেঙে গেছে।’
পদ্মার পানি কমার সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। নদীতে বিলীন হয়েছে জাতীয় গ্রিডের তিনটি বৈদ্যুতিক টাওয়ার। এক সপ্তাহে সাহেবনগর, মির্জানগর, তালবাড়িয়ায় প্রায় ১০০ একর জমিও ভেঙে গেছে নদীতে।
পদ্মা নদী রক্ষা কমিটির নেতা মুফতি ইয়াকুব বিন আজমল বলেন, ‘পদ্মায় পানি কমার কারণে সম্প্রতি ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে সাহেবনগর জামিউল মাদ্রাসা ভবন।’
এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পদ্মায় পানি কমার সঙ্গে ভাঙনও তীব্র হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব এলাকায় ভাঙন তীব্র হচ্ছে, সেসব এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’