পুলিশি হয়রানির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেয়ায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে থানা হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক কুমার দাসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বৃদ্ধ সাইফুদ্দিন প্রামাণিক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে ওসির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটির জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার রাতে খবরটি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মোরশেদুল ইসলাম ও নিখিল কুমার ঘোষ বলেন, সিরাজগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামানের আদালতে মামলা করেন সাইফুদ্দিন প্রামাণিক। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাদীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের রেজিস্টার্ড চিকিৎসককে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে অন্য এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারক।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, ১০ মাস আগে উল্লাপাড়া উপজেলার বেতবাড়ী গ্রামে একটি মারামারির ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেফতার অভিযানের নামে পুরো গ্রাম তছনছ করে পুলিশ। চলে গ্রেফতার বাণিজ্য। চাহিদামতো টাকা না দেয়ায় প্রতি রাতেই ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে হয়রানি করা হয় নিরীহ মানুষকে। একাধিক ব্যক্তিকে মামলা ছাড়াই গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
এসব বিষয় নিয়ে গ্রামবাসী সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশি নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশে ক্ষিপ্ত হন ওসি দীপক কুমার দাস। তিনি সাংবাদিকদের সাক্ষাত্কার দেয়া ব্যক্তিদের একে একে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে নতুন নতুন মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠাতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ মে রাতে বৃদ্ধ সাইফুদ্দিন প্রামাণিককে আটক করে থানায় নিয়ে ওসি ও দুই এসআই মিলে অমানুষিক নির্যাতন করে পরদিন একটি চাঁদাবাজি মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করেন। বিচারক জামিন মঞ্জুর করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতে মামলা দায়ের করেন সাইফুদ্দিন প্রামাণিক।
সাইফুদ্দিন প্রামাণিক জানান, আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। সাংবাদিকদের কাছে পুলিশি হয়রানির কথা বলাতেই আমাকে থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়।
উল্লাপাড়া থানার ওসি দীপক কুমার দাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাকে কোনো নির্যাতন করা হয়নি। সাইফুদ্দিন প্রামাণিকের বিরুদ্ধে অনেক আগের একটা মামলা ছিল। তাকে সেই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল।