ভোলায় ঝড়ে লণ্ডভণ্ড চরাঞ্চল ঈদের আগে ঘরহারা অর্ধশত পরিবার

ভোলায় ঘূর্ণিঝড়ে অর্ধশত ঘরবাড়িসহ বহু গাছপালা বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল চরফ্যাশন উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঈদের আগে উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন গরিব ও অসহায় মানুষের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ প্রবল দমকা হাওয়াসহ ঝড় শুরু হয়। মুহূর্তেই তা তীব্র আকার ধারণ করে ঘূর্ণিঝড়ের মতো রূপ নেয় এবং সঙ্গে যোগ হয় শিলাবৃষ্টি। এতে টিনের চালা উড়ে যায়, কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। আতঙ্কিত মানুষজন রাতের অন্ধকারে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি করে।

ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ বলেন, ‘ঈদ দরজায় কড়া নাড়ছে, কিন্তু ঝড়ে আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নেই। শুধু আমার পরিবার নয়, আরো অনেকেই ঘরহারা হয়েছে।’ একই এলাকার হাসান, ইব্রাহিম, জসিম, আক্তার, রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, আনোয়ার ও গিয়াস উদ্দিনসহ বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার ঢালচর, কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকী, চর মানিকা ও নজরুলনগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম জানান, ‘ঝড়ের তাণ্ডবে স্থানীয় বাজারের একাধিক দোকানের চালা উড়ে গেছে।’

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢালচর ইউনিয়নে অন্তত ৩০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চর মানিকা ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকায় আরো প্রায় ২০টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢালচর ইউনিয়নের প্রশাসক ও বন কর্মকর্তা মুইনুল ইসলাম জানান, ‘ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।’ চর মানিকা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগমও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত সহায়তা দেয়া হবে।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিএম ওয়ালিউল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আরও