বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদহারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারকে প্রতিদিন ‘ফায়ার ফাইটিং’ করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফলে অর্থনীতির এমন বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।
শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আজ সকালে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা ইউএন-ওএইচআরএলএলএস একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার মূল বিষয়গুলো এ সভায় উপস্থাপন করা হয়।
আমির খসরু বলেন, ‘এখানে আমরা একটি ইকোনমিকে স্যালভেজ করার যুদ্ধের মধ্যে আছি। সরকার এ অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এ মুহূর্তে গ্র্যাজুয়েশনের প্রশ্নই আসে না, কারণ অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নগামী। আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখনই পরিস্থিতি ছিল জটিল। তাই এখন গ্র্যাজুয়েশনের দিকে যাওয়ার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে যে বহুমুখী চাপ তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব অনেক বড়। এতে সরকারী তহবিলে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আমরা প্রতিদিন ফায়ার ফাইটিং করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ঋণ ও দায়-দেনা ব্যবস্থাপনাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে আমরা যে ফাইন্যান্সিং করব, সেখানে কস্ট অব ফাইন্যান্সিং বিবেচনা করতে হবে। সবকিছু মিলিয়ে ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে আমাদের এগোতে হবে।’
জ্বালানি সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।
ভবিষ্যতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারী তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন, যাতে একদিকে জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।’