কোরবানির বাজার

ছোট ঘাসের আঁটি ৫০, ভূসির কেজি ১০০ টাকা

রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পশুর জন্য কাঁচা ঘাস ও খড়ের আঁটি, কাঁঠাল গাছের পাতা, ভূসি নিয়ে বসেছেন মৌসুমী বিক্রেতারা। রাজধানীর অলিগলিতে দেখা মিলছে এমন ব্যবসায়ীর।

রাত পোহালে ঈদুল আজহা। কোরবানির পশু কেনাবেচায় সরগরম হাট কাজার। হাটে হাটে চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম। পশু কিনে নতুন মাথা ব্যথার কারণ হচ্ছে পশুর খাদ্য। পশুর কিনে তার যত্নের দিকেও খেয়াল রাখতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। ফলে বেড়েছে আলাদা খরচ। গরু, ছাগল কিনে খাবারের জন্য গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে হাজার টাকা।

রাজধানীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোরবানির পশুর জন্য কাঁচা ঘাস ও খড়ের আঁটি, কাঁঠাল গাছের পাতা, ভূসি নিয়ে বসেছেন মৌসুমী বিক্রেতারা। রাজধানীর অলিগলিতে দেখা মিলছে এমন ব্যবসায়ীর। যেখানে কাঁচা ঘাস ও খড়ের আঁটি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁঠাল গাছের পাতা আঁটি প্রতি ২০ টাকা, ভূসি কেজি প্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মাংস কাটার কাঠের গুঁড়ি, বাঁশের পাটি, দড়ি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

বিক্রেতারা জানান, ‘‌রাজধানীর মানুষ কোরবানি এলে গরু, ছাগল কেনে। দুই এক দিন আগে কেনা এসব পশুর যত্ন নিতে ঘাস, খড়, ভূসি কিনতে হয়। এসব অন্য সময় পাওয়া না গেলেও কোরবানির এক দুদিন আগে আশপাশের অঞ্চল থেকে অনেকে বিক্রি করতে আসে। ঢাকায় এসব গো-খাদ্যের চাহিদা বেশি থাকায় অনেকে এবারো কাঁচা ধান গাছ, ঘাস, খড়ের আঁটি, গাছের পাতা ও ভূসি নিয়ে এসেছে। খড়ের সঙ্গে ভূসি মিশিয়ে দিলে গরু বেশি খায়। তাই অনেকে বাধ্য হয়ে কেনে। আবার এসব কিনতে খরচ কম হলেও লাভ বেশি হয় বিক্রেতাদের।’

রাজধানীর পূর্ব রামপুরার উলন রোডে ২০০টি কাঁচা ঘাসের আঁটি ও ১৫০টি কাঠের গুঁড়ি নিয়ে বসেছিলেন আব্দুল মতিন। এরই মধ্যে ১০০টি কাঠের গুঁড়ি ও ১২০টি ঘাসের আঁটি বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‌কোরবানির ঈদ এলেই ঢাকার মানুষ খাইট্টা (কাঠের গুঁড়ি) কেনে। ছোটগুলো ২০০, মাঝারি ৫০০ এবং বড় খাইট্টা ৮০০ টাকায় বিক্রি করেছি। ১৫০টা থেকে ১০০টা খাইট্টা বিক্রি করে ফেলেছি। পাশাপাশি এবার ঘাসের আঁটি নিয়ে এসেছি। ৩০ টাকা আঁটি বিক্রি করছি। এগুলোতে খরচ কম। গ্রামের জমি থেকে কেটে এনেছি। গাড়ি ভাড়া ছাড়া সেভাবে আর খরচ নাই।’

কারওয়ান বাজারের পেট্রোবাংলা ভবনের পাশের রাস্তায় কাঁচা ধান গাছ বিক্রি করছেন সাভারের মুসলিম উদ্দিন। তিনি প্রতি বছর এখানে ঘাস ও ধান গাছ নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘‌এবার ৩০০টা ধান গাছের এবং ২০০টা খড়ের আঁটি নিয়ে এসেছি। গতকাল ২০ টাকায় বিক্রি করেছি আজকে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করছি। আজকে রাত পর্যন্ত বিক্রি করব।’

পাশের আরেক ব্যবসায়ী বিক্রি করছেন কাঁঠাল গাছের পাতা। তিনি জানান, ‘‌ছাগল ঘাসের চেয়ে গাছের পাতা বেশি পছন্দ করে। কোরবানিতে অনেকে ছাগল কেনে। তার জন্য গাছের পাতা কেনে। এবার আঁটি প্রতি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেকে ৫-৬ আঁটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে।’

তবে ঘাসের আঁটি ও ভূসির দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে অভিযোগ ক্রেতাদের। রামপুরা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল আলম কোরবানির জন্য এবার একটি গরু ও একটি ছাগল কিনেছেন। সেগুলোর জন্য ৫ আঁটি ঘাস ও ৫ আঁটি গাছের পাতা কিনেছেন। এছাড়া দুই কেজি ভূসিও কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘‌গত বছর ঘাসের আঁটি ছিল ২০ টাকা এবার সেটা ৪০ টাকা করে কিনতে হচ্ছে। এক কেজি ভূসির দাম ছিল ৭০ টাকা এবার সেটি ১০০ টাকা হয়ে গেছে। সবকিছুর সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর দামও বেড়েছে। দাম বাড়ালেও আমাদেরকে কিনতে হয়। এক দুই দিন গরু রাখতে হলে তার খাবারের দিকেও খেয়াল রাখতে হয়।’

আরও