বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সুন্দরকাঠি বাজারসংলগ্ন স্থানে ভাড়ানি খালে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে নলুয়া, ফরিদপুর ও দুধল ইউনিয়নের বাসিন্দারা। খালে পানি না থাকায় নৌকা চলাচল করতে পারছে না। এজন্য দীর্ঘ পথ ঘুরে কলসকাঠি, কালীগঞ্জ, বোয়ালীয়াসহ কয়েকটি হাট ও বাজারে যেতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্রোতের কারণে খালের দুপাশ ভেঙে যাওয়ার অজুহাতে জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভাড়ানি খালের সুন্দরকাঠি বাজারসংলগ্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। খালের প্রায় ১০০ ফুট জায়গায় বড় বড় গাছের খুঁটি পুঁতে বালির বস্তা ও কনক্রিট ফেলে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, কলসকাঠি, কালীগঞ্জ, বোয়ালীয়াসহ কয়েকটি হাট ও বাজারে যেতে দীর্ঘদিন থেকে ভাড়ানি খাল ব্যবহার করত তারা। এক মাস ধরে খালে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় বর্তমানে তাদের প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত রাস্তা ঘুরে বিকল্প পথে ওইসব বাজারে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। এতে তাদের যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি খরচও দ্বিগুণ হয়েছে।
এদিকে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে খালে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ পথ ঘুরে পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে খরচ বাড়ছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসনকে না জানিয়েই স্রোতের কারণে খালের দুপাশ ভেঙে যাওয়ার অজুহাতে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়।
দুধল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোর্শেদ খান উজ্জল বলেন, খাল দিয়ে আমার ইউনিয়ন পরিষদের অনেক ব্যবসায়ী পণ্য আনা-নেয়া করতেন। এখন বিকল্প পথ দিয়ে পণ্য আনতে হয়। তাতে খরচ ও ঝামেলা দুটিই বেড়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জহির মোল্লা বলেন, ভাঙনের হাত থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করতেই এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী না চাইলে বাঁধটি অপসারণ করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রবহমান কোনো খালে বাঁধ বা ভরাট করা যাবে না। খালে বাঁধ দেয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে দ্রুত খালের মধ্যে নির্মিত বাঁধ অপসারণ করা হবে।
বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, প্রবহমান কোনো খাল বা নদীতে বাঁধ দেয়ার সুযোগ নেই। খালে স্থায়ী বাঁধ দেয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আমরা শুনেছি। দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, খালে স্থায়ী বাঁধ দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।