জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে টানা চারদিনের সরকারি ছুটিতে রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী। এতে ঢাকার সড়কে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। একই সঙ্গে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে গণপরিবহনের। সুযোগ নিয়ে বাস, রিকশা, অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহনে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
সাধারণ দিনে রাজধানীতে লোকাল বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা হলেও আজ কোনো বাসই ২০ টাকার নিচে যাত্রী তুলছে না। রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি এমনকি মোটরসাইকেলেও ইচ্ছেমতো ভাড়া হাঁকা হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসেও কোনো কোনো রুটে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়তি ভাড়া দিয়েও যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারছেন না অনেকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
আব্দুল্লাহপুর-সদরঘাট রুটে চলাচলকারী ভিক্টর ক্লাসিক বাসে করে উত্তরা থেকে শাহজাদপুরে এসেছেন ষাটোর্ধ্ব আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, যে পথে সাধারণত ৩৫ টাকা ভাড়া লাগে, আজ সেখানে ৮০ টাকা দিয়ে আসতে হয়েছে।
এদিকে, গুলশানে কর্মরত মনিরুল ইসলাম ভোট দিতে নিজ জেলা ভোলার উদ্দেশ্যে রওনা হন। নতুন বাজার এলাকায় বাস না পেয়ে তিনি সদরঘাট যাওয়ার জন্য একটি অটোরিকশা খুঁজছিলেন। তবে সাড়ে তিনশ টাকা ভাড়াতেও অটোরিকশাচালক রাজি হননি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভিক্টর ক্লাসিকের একটি বাসে করে স্বাভাবিক ৩০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা দিয়ে সদরঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি।
নির্বাচন উপলক্ষে যাত্রীচাপ ও পরিবহন সংকটের সুযোগ নিয়ে এভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা।