মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টার পর ৮ বছর বয়সী এক শিশুর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। পরে এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে উত্তেজিত জনতার গণধোলাইয়ে প্রাণ গেছে আরো দুজনের।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে হাটিপাড়া ইউনিয়নের বনপারিল (কান্দুরপার ব্রিজ) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে দুদুল মিয়ার মেয়ে আতিকা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুজি করলেও দীর্ঘ সময়েও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আতিকার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির পরনে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই জড়িত সন্দেহে স্থানীয় উত্তেজিত জনতা একই গ্রামের পান্নু মিয়া, চাচা ফজলুর রহমান ও বড় ভাই নাজমুলকে আটক করে গণধোলাই দেয়। এতে অটোরিকশাচালক পান্নু মিয়া (৪২) ও তার ভাই ফজলু (৩৫) নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুলকে (১৮) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এলাকাবাসী জানায়, বখাটে নাজমুল মাদকাসক্ত ছিল। নেশার জন্য মেয়েটিকে হত্যা করে তার কানে থাকা স্বর্ণালংকার লুটে নেয় বলে অভিযোগ তাদের।
সদর থানার ওসি মো. ইকরাম হোসেন জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে গণধোলাইয়ের ঘটনাতেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে এ ঘটনা এখনো কোন পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়নি।
পুলিশ সুপার মো. সারওয়ার আলম বলেন, ঘটনা তদন্তে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর অধিকতর তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।