পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী হাউজবোট চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করেছে জেলা প্রশাসন। হাওরের ওয়াচ-টাওয়ার ও আশপাশের এলাকায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত হাউজবোট প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার রাতে এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি করেন জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ রেজাউল করিম।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি ঠেকাতে হাওরের ওয়াচ-টাওয়ার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যটক পরিবহনকারী হাউজবোটের চলাচল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি হাওরের পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো কার্যক্রম থেকেও বিরত থাকতে হবে সবাইকে।
জেলার অন্য পর্যটন এলাকায় ভ্রমণের সময়ও জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এ বিষয়ে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি কাশমির রেজা জানান, টাঙ্গুয়ার হাওর একটি পরিবেশগত সংকটাপন্ন অঞ্চল। এ এলাকায় পর্যটন অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হওয়া দরকার। গত ২০ বছরে হাওরের প্রায় ৭০ ভাগ জীববৈচিত্র্য হারিয়ে গেছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো গবেষণা হয়নি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে পর্যটকদের কোনো বাধা নেই। তবে ওয়াচ টাওয়ার ও আশপাশের এলাকায় হাউজবোট আপাতত যেতে পারবে না। এ ছাড়া পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না। এজন্য আমরা কঠোর নজরদারি রাখব। হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যারা জেলা প্রশাসনের জারি করা নির্দেশ অমান্য করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায় হাওরটির অবস্থান। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট।