কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মুখোমুখি আপন দুই ভাই

স্থানীয়রা বলছেন, দুই দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপরই নির্ভর করবে কে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আপন দুই ভাই। সোমবার (৩ নভেম্বর) বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সেখানে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে এসেছে আজিজুর রহমানের নাম। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের মনোনয়ন অনেকটাই চূড়ান্ত। আজিজুর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক আপন ভাই।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭১১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৯২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) ভোটার ৯ জন। জেলার রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলা নিয়ে আসনটি গঠিত।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ভোটারদের মন জয় করতেই এখন দুই ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তাদের এই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়ে উঠেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়রা মনে করছেন, বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলেরই শক্ত ঘাঁটি হিসেবে কুড়িগ্রাম-৪ দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। ফলে দুই ভাইয়ের এই মুখোমুখি লড়াই আসনটিকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত আসনে পরিণত করেছে।

ভোটারদের মধ্যে কৌতূহল এখন তুঙ্গে। কেউ বলছেন, এটা পরিবারের ভেতরেও রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতিচ্ছবি। আবার অনেকে মনে করছেন, দুই ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এখন শেষ হাসি কে হাসে— সেটাই দেখার বিষয়। স্থানীয়রা বলছেন, দুই দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ওপরই নির্ভর করবে কে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন।

বিএনপি প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ছোট ভাই একসময় বিএনপি করতো। আমার কারণে সে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তীতে জামায়াতে যোগ দিয়ে সেই দলের প্রার্থী হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা না করলে আমার পরিচয় এবং পারিবারিক ইমেজের কারণে আমার ছোট ভাই এককভাবে নির্বাচনে সুবিধা নিতে পারত। কিন্তু আমি প্রার্থী হওয়ায় সেই সুযোগ থেকে সে বঞ্চিত হলো। জনগণ আমাকেই চাইছে। তাই আমি আশা করবো আগামী নির্বাচনে দল আমাকে ফাইনাল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে।‘

জামায়াতের মনোনয়নপ্রত্যাশী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক বলেন, ‘আমার বড় ভাই বিএনপি হতে সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েছেন। তিনি যদি সত্যি মনোনয়ন পেয়ে যান তবুও আমাকে পরাজিত করতে পারবেন না। কারণ জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখন অনেক বেড়েছে। দুই ভাই প্রার্থী হলেও নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।‘

আরও