যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ‘আল ইমরান’ পরিবহনের একটি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ মে) রাত সাড়ে ১১টা থেকে বুধবার (২১ মে) ভোর ৫টা পর্যন্ত বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যাত্রীদের সব লুটে নেয় ডাকাত দল। সেই সঙ্গে বাসের নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
এর আগে চলতি বছরের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এই মহাসড়কে ইউনিক রয়েলসের একটি বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। ২০২২ সালের ২ আগস্ট একই কায়দায় কুষ্টিয়াগামী একটি বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে।
বাসের চালক, সুপারভাইজার ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে ঢাকার আবদুল্লাহপুর থেকে যাত্রীবাহী বাসটি রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে সাভারের নরসিংহপুর, বাইপাইল, আশুলিয়া থেকে কয়েকজন যাত্রী ওঠেন। সবমিলিয়ে ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা অতিক্রম করে।
যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের কয়েক কিলোমিটার যাওয়ার পর হঠাৎ যাত্রীদের মধ্য থেকে ৮-১০ জন ছুরি ও চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই যাত্রী ও চালকসহ সবার চোখমুখ বেঁধে ফেলে তারা। সেইসঙ্গে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের গোলচত্বর দিয়ে ঘুরিয়ে তারা বাসটিকে আবার ঢাকার দিকে চালাতে থাকে। পরে বাসটি নিয়ে সাভারের চন্দ্রা-আশুলিয়া পর্যন্ত এসে আবার টাঙ্গাইলের দিকে চলতে থাকে। এভাবে রাতভর কয়েক দফা বাসটি চক্কর দেয়।
এ সময় জিম্মি করা প্রত্যেক যাত্রীকে তল্লাশি করে মুঠোফোন, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্য মালামাল লুটে নেয় ডাকাতরা। পাশাপাশি নারী যাত্রীদের তল্লাশির সময় শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে। চোখ-মুখ বাঁধা থাকায় নারী যাত্রীদের কান্নাকাটি ও কাকুতি-মিনতি শুনতে পান অন্য যাত্রীরা।
বাসচালক আবেদ আলী জানান, সারা রাতে বাসটি নিয়ে ডাকাতরা ৪-৫ বার টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-আশুলিয়া যাওয়া-আসা করে। পরে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে টাঙ্গাইল শহরের বাইপাস সড়কের শিবপুর এলাকায় বাসটি রেখে চলে যায় ডাকাত দল। সকালের দিকে তিনি যাত্রীদের নিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় যান।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানবীর আহমদ বলেন, এ বাস ডাকাতির ঘটনায় মামলা দায়েেরের প্রক্রিয়া চলছে। ডাকাত দলকে চিহ্নিত করতে কাজ শুরু করেছি।