দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালু

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাগজবিহীন পরীক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য আলাদা সমন্বিত ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে বহুনির্বাচনী ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে তারা তাৎক্ষণিক ফলাফল, কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর ও তার ব্যাখ্যাও দেখতে পারবেন।

পরীক্ষার হলে খাতা-কলম বা প্রশ্নপত্র ছাড়াই ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে চালু হয়েছে পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম বা কাগজবিহীন পরীক্ষা পদ্ধতি। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ফলাফল দেখতে পারছেন। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর এ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন পদ্ধতিতে টিউটোরিয়াল পরীক্ষা দিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এ পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কেন্দ্রের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে এ পদ্ধতি তৈরি করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কাগজবিহীন পরীক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য আলাদা সমন্বিত ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে বহুনির্বাচনী ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষে তারা তাৎক্ষণিক ফলাফল, কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর ও তার ব্যাখ্যাও দেখতে পারবেন।

উদ্ভাবকদের তথ্যানুযায়ী, এ ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা সহজে প্রশ্ন তৈরি ও একাধিক পরীক্ষা নিতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের ফলে খাতা দেখার সময়ও কমবে। একই সঙ্গে দ্রুত ফল প্রকাশ, মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রশাসনের জন্যও এ ব্যবস্থায় পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির সুবিধা রয়েছে। এতে কাগজের ব্যবহার ও সময়ের অপচয় কমবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে পরীক্ষাপদ্ধতিকে আরো দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বলেন, নতুন পরীক্ষাপদ্ধতি তাকে আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। তার মতে, এ ব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই উপকৃত হবেন। এছাড়া নকল প্রতিরোধ ও সঠিক মূল্যায়নেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

একই বর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি বলেন, কাগজবিহীন পরীক্ষা তাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। ফলে ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ থাকছে। কাগজ ছাড়া এ পদ্ধতি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী বলেও মনে করেন তিনি।

পদ্ধতিটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা থেকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাগজবিহীন পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফল প্রকাশ, ফলাফল প্রক্রিয়ায় নির্ভুলতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য সহজ ও সুবিধাজনক ব্যবস্থাপনা।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রকৌশল বিভাগে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নিতে পারবে। এক্ষেত্রে সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে জানান, এটি একটি চমৎকার উদ্ভাবন। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবসময় কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমকে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।

পরীক্ষাপদ্ধতিকে আরো স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত করতে কাগজবিহীন পরীক্ষা চালু করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য। প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ পদ্ধতিতে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে যেকোনো ডিজিটাল উদ্যোগে বর্তমান প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।

আরও