গতকাল ভোর থেকে যাত্রী ও যানবাহনের ভিড় বাড়তে থাকে। একের পর এক ফেরি চলাচল অব্যাহত থাকায় ভিড় থাকলেও বড় ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়নি যাত্রীদের।
সরজমিনে সকালে দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, সচল থাকা ৩ নম্বর, ৪ নম্বর ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরি পারাপার করা হচ্ছে। একের পর এক ফেরি আসছে যাত্রী ও যানবাহন বোঝাই করে। প্রতিটি ফেরিতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের সংখ্যাই ছিল বেশি।
অন্যদিকে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটেও একই চিত্র দেখা গেছে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোয় তিল ধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে লঞ্চে। তবে লঞ্চঘাটে সুপেয় পানি, মাতৃদুগ্ধ পান করানোর স্থান ও ইফতারের জন্য আলাদা স্থানের ব্যবস্থা করেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।
এদিকে দুপুরে ঈদের ঘরমুখী মানুষের যাতে ভোগান্তি না হয়, সেজন্য ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশসহ ঘাটসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়ার কারণে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে এ নৌ-রুটে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘ঘাটে চুরি-ছিনতাইসহ যাত্রী হয়রানি বন্ধে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সাদা পোশাকে কাজ করছে গোয়েন্দা সদস্যরা। ঘাটে কোনো প্রকার অন্যায় মেনে নেয়া হবে না।’
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, ‘একটি স্বস্তির ঈদযাত্রা উপহার দিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ সমন্বয় করে কাজ করছে। ঘাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ টিমও কাজ করছে।’