রাজশাহী বিভাগে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু বাড়তে থাকায় নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও রামেক কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার তিন শিশুর মৃত্যুর পর গতকাল আরো এক শিশুর প্রাণহানির ঘটনা পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এ নিয়ে ৪৮ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, সংক্রমণ মোকাবেলায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৪০ শয্যার হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশু ওয়ার্ডে পৃথক আইসোলেশন কর্নার তৈরি করে সন্দেহভাজন রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে। রোগীর চাপ আরো বাড়লে পুরো একটি শিশু ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়াতে আইসিইউ সেবাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। শিশু আইসিইউতে বেড সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১৮ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য আর বাকি ছয়টি অন্যান্য রোগীর জন্য নির্ধারিত। এছাড়া আইসিইউর চাপ কমাতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে সাময়িকভাবে ১০টি বেড ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তবে রামেক হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীর অভিভাবকদের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, রোগীর অতিরিক্ত চাপ ও সময়মতো চিকিৎসক-নার্স না পাওয়ায় শুরুতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে শিশুমৃত্যু নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও ঢাকা থেকে মন্ত্রী-সচিবদের উপস্থিতি বাড়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা। অনেকের মতে, শুরু থেকেই এমন তৎপরতা থাকলে আরো প্রাণ রক্ষা করা যেত।
গতকাল রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের হাম ও রুবেলার নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৫২০ জনের। এতে ১৩৭ জনের হাম ও দুজনের রুবেলা শনাক্ত হয়। বিভাগজুড়ে হাসপাতালগুলোয় ভর্তি আছে ২২৯ জন শিশু।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘হামের সংক্রমণ রোধে বিভাগে আটজন সিভিল সার্জন অফিসার এবং মাঠ পর্যায়ে ৬৭ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মাঠকর্মীরা কাজ করছেন। একই সঙ্গে ভ্যাকসিনেশন কাজও জোরদার করা হয়েছে।’