তিনি বলেছেন, ‘মিডিয়া শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার সাহসই সাংবাদিকতার মূল শক্তি। রাজনীতিবিদদের ভুলত্রুটি তুলে ধরে সঠিক পথ দেখানো গণমাধ্যমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’
গতকাল দুপুরে ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের আনিসুল হক মিলনায়তনে নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকরা নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরবেন। যে ভালো কাজ করবে তাকে স্বীকৃতি দিতে হবে, আর যে অন্যায় করবে তাকে সমালোচনার মুখোমুখি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে গিয়ে ভুল হতে পারে। সেই ভুল তুলে ধরা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থে সত্য প্রকাশ করাই গণমাধ্যমের দায়িত্ব।’ অনেক সময় সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটি দেশের গণতন্ত্রের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের ওপর। তাই সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।’
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন উপজেলা অনুমোদন দেয়া হয়েছে এবং এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। তবে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, কাজকে মূল্যায়ন করতে হবে। ভালো কাজের স্বীকৃতি যেমন দিতে হবে, তেমনি অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী উপস্থিত ছিলেন।