কারফিউর মধ্যে বিঘ্নিত ওষুধ সরবরাহ

দেশে এক সপ্তাহ ধরে চলছে জরুরি অবস্থা। শিক্ষার্থীদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ও চারদিন ধরে চলা কারফিউতে থেমে আছে প্রায় সব কর্মযজ্ঞ। তবে থেমে নেই রোগ-ব্যাধি কিংবা শারীরিক জটিলতা। ওষুধের চাহিদা আগের মতো থাকলেও খুচরা বাজারে নেই একই রকম সরবরাহ। গ্রাহকরা ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। ফার্মেসি ও ওষুধ শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ফার্মেসিতে ওষুধ সরবরাহ কমেছে। কোম্পানিগুলোও ঠিকমতো ক্রয়াদেশ নিতে পারছে না। কারফিউ শিথিলের সময়ে স্বল্প পরিসরে বিক্রয় প্রতিনিধিরা এসে হাতে হাতে ক্রয়াদেশ নিচ্ছেন। আবার পণ্যও সরবরাহ করছেন কারফিউ শিথিলের সময়েই। এতে সরবরাহ কমে এসেছে প্রায় অর্ধেকেরও নিচে।

দেশে এক সপ্তাহ ধরে চলছে জরুরি অবস্থা। শিক্ষার্থীদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ও চারদিন ধরে চলা কারফিউতে থেমে আছে প্রায় সব কর্মযজ্ঞ। তবে থেমে নেই রোগ-ব্যাধি কিংবা শারীরিক জটিলতা। ওষুধের চাহিদা আগের মতো থাকলেও খুচরা বাজারে নেই একই রকম সরবরাহ। গ্রাহকরা ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। ফার্মেসি ও ওষুধ শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ফার্মেসিতে ওষুধ সরবরাহ কমেছে। কোম্পানিগুলোও ঠিকমতো ক্রয়াদেশ নিতে পারছে না। কারফিউ শিথিলের সময়ে স্বল্প পরিসরে বিক্রয় প্রতিনিধিরা এসে হাতে হাতে ক্রয়াদেশ নিচ্ছেন। আবার পণ্যও সরবরাহ করছেন কারফিউ শিথিলের সময়েই। এতে সরবরাহ কমে এসেছে প্রায় অর্ধেকেরও নিচে। 

রাজধানীর অন্তত ২০টি ওষুধের দোকান ঘুরে জানা যায়, ফার্মেসিগুলোয় নিয়মিত গ্রাহক এলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করতে পারছেন না তারা। দেশে ওষুধ বিক্রির বড় চেইন শপগুলোর একটি লাজ ফার্মা। গতকাল প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা যায়, নিয়মিতই ক্রেতারা ভিড় করছেন ওষুধের দোকানে। ব্যাংকার জহুরুল করিমের মা নিউরো সমস্যায় ভুগছেন। গতকাল মিরপুরের লাজ ফার্মায় মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়েছিলেন। কিছু ওষুধ পেলেও চাহিদার সবক’টি কিনতে পারেননি। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘একটি ওষুধ তিন দু-দিন ধরে বেশ কয়েকটি দোকানে খুঁজছি। এখনো পাইনি।’

মিরপুরের লাজ ফার্মার বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিনিধি বলেন, ‘আমাদের গড় গ্রাহকসংখ্যা প্রায় আগের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। ওষুধের চাহিদা তো আর থেমে নেই। তবে গ্রাহকের চাহিদামতো সব ওষুধ দিতে পারছি না। কোম্পানিগুলো থেকে সঠিক সময়ে ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। ওষুধ সরবরাহের গাড়ি এখন প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। অনেক সময় নিয়মিত গ্রাহকদের ওষুধ কিছু কমিয়ে নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি আমরা, যাতে অন্য গ্রাহককেও সেবা দিতে পারি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো তাদের চাহিদামতো ওষুধ দিতে পারব।’

একই অবস্থা ছোট দোকানগুলোয়ও। পল্লবীর আল-আরাফাত মেডিকেল হলের মালিক ওমর ফারুক সোহাগ বলেন, ‘দু-তিন দিন কোনো গাড়ি আসেনি। ফোন করে অর্ডার দেয়া ছাড়া কোনো কোম্পানিই গাড়ি পাঠাচ্ছে না। তবে কারফিউ শিথিল হওয়ায় সম্প্রতি কিছু ওষুধের জোগান পেয়েছি।’

প্রায় একই রকম অবস্থার বর্ণনা দিয়েছে মেডিসিন ফার্মা, আল আকসা মেডিকেল হল, মেডিকেয়ার ফার্মাসহ বিভিন্ন ফার্মেসি। তারা বলছেন, অন্তত ইন্টারনেট সচল ও পরিবহন সেবা স্বাভাবিক থাকলে ওষুধের সরবরাহে কোনো ঘাটতি হতো না।

রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের তিনজন বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, আগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইনভয়েস (ক্রয়াদেশ) নিয়ে ওষুধের গাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হতো। এখন দোকানগুলোয় সশরীরে গিয়ে হাতে হাতে ইনভয়েস নিচ্ছেন তারা। আবার সবসময় যেতে পারছেন না সেখানে। শুধু প্রতিদিন কারফিউ শিথিল হওয়া কয়েক ঘণ্টাতেই যতটুকু সম্ভব কাভার করার চেষ্টা করছেন তারা। মূলত অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ ছাড়া বাকি ওষুধ কিনতে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

খুচরা বাজারে ওষুধ সরবরাহের বিষয়ে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের দৈনিক ২৫-৩০ হাজার ইনভয়েস সার্ভ করতে হয়। সারা দেশে ৪৫০ থেকে ৫০০ গাড়ি দিয়ে আমরা ডেলিভারি করি। চারদিন ধরে একটা জাতীয় জরুরি অবস্থা পার করছিলাম। নেটওয়ার্ক ইস্যু ও অস্বাভাবিক অবস্থার কারণে বিতরণসহ সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে গেছে। আমরা আগে প্রতিদিন যা বিক্রি করতাম, তার ৬০-৬৫ শতাংশ করতে পেরেছি। এটাও আজকের চিত্র। দু-তিন আগে এটা ৩০-৩৫ শতাংশ ছিল।’


আরও