রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেয়ার পরও দ্বিতীয় দিনের মতো সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে। ধ্বংসস্তূপের পাশে ত্রিপল টাঙিয়ে শিশুদের টিকা দেয়া হচ্ছে। তবে জায়গা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে কেন্দ্রটির নিয়মিত সেবার বেশিরভাগই বন্ধ রয়েছে।
আজ রোববার সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৩৭ শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা নিয়েছেন আরো অন্তত ১৫ জন। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত মানুষ সেবা পেয়েছেন। কর্মীরা জানান, স্বাভাবিক দিনে এ কেন্দ্র থেকে গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন সেবা নিতেন।
রাড্ডা সেন্টারে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি ওজন ও উচ্চতা মাপা, পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ এবং শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হতো। গর্ভবতী নারী ও মায়েদের পুষ্টি পরামর্শ, পরিবার পরিকল্পনা ও প্রসব-পরবর্তী সেবাও দেয়া হতো। কম খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ ছিল।
সেন্টারের প্যারামেডিক ফারজানা বলেন, আগে শিশুদের টিকা দেয়ার সময় ওজন ও উচ্চতা মাপা এবং অভিভাবকদের পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ দেয়া হতো। এখন জায়গার সংকট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় সেভাবে সেবা দেয়া যাচ্ছে না। আজও সেবা নিতে এসে অনেকে ফিরে গেছেন। ধ্বংসস্তূপ দেখতে আসা মানুষের ভিড়েও সেবার জায়গা সংকুচিত হয়ে গেছে।
রাড্ডা সেন্টারের কর্মীরা জানান, ভাঙচুরের ঘটনায় টিকাদানের রেজিস্টার খাতা ও দুটি ট্যাবও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কোন শিশুর কখন টিকা নেয়ার কথা, সেই তথ্য যাচাই করতে সমস্যা হচ্ছে। আগে রেজিস্টার দেখে অভিভাবকদের ফোন করে টিকার সময় জানানো হতো। এখন কর্মীরা নিজেদের মুঠোফোন ব্যবহার করে যতটা সম্ভব অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
এদিকে আজ দুপুরে রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শনে যান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। তারা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কেন্দ্রের সামনে থাকা ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়।
পরিদর্শন শেষে আসিফ মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, রাড্ডা সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের এক সংসদ সদস্যের নেতৃত্বের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। তার নেতৃত্বে ‘ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ’ ও ‘মবতন্ত্র’ কায়েম করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণ করে সেবা চালুর দাবি জানান তিনি।
এদিন রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শন শেষে চিকিৎসক তাসনিম জারা সাংবাদিকদের বলেন, কয়েক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলার পরও পুলিশ তা ঠেকাতে পারেনি। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, টিকাদানের রেজিস্টার খাতা ও দুটি ট্যাব না থাকায় শিশুদের টিকার তথ্য পেতে সমস্যা হচ্ছে। রোদে বাইরে বসে শিশুদের টিকা নিতে হচ্ছে এবং ভিড়ের কারণে কেউ কেউ ফিরে যাচ্ছেন। দ্রুত রেজিস্টার পুনরায় তৈরি করে শিশুদের টিকার তথ্য সংগ্রহ এবং কোনো শিশু যেন নিয়মিত টিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দ্রুত রেজিস্টার তৈরি করে শিশুদের টিকার তথ্য সংগ্রহ এবং কোনো শিশু যেন নিয়মিত টিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ব্যবহারযোগ্য কক্ষ, ওয়াশরুম ও খাবারের ব্যবস্থা করে দ্রুত সেবাদানের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
প্রায় ৫০ বছর ধরে সেবা দেয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে কেন্দ্রটির একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেফতার করেছে এবং কেন্দ্র থেকে লুট হওয়া মালামাল দুই ট্রাক উদ্ধার করেছে।