রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপানের জোরালো সমর্থন চাইলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনে জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি ইতোকে তিনি অনুরোধ করেন, যেন মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কটাকে কাজে লাগিয়ে তারা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া ১১ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিকের দ্রুত, নিরাপদ, টেকসই প্রত্যাবাসনে সাহায্য করে।
গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূত দেখা করতে এলে তিনি দেশটির প্রতি এ আহ্বান জানান। জবাবে জাপানের রাষ্ট্রদূত মনে করিয়ে দেন, সম্প্রতি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমার সফরের সময় সেখানকার কর্তৃপক্ষকে দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত নিশ্চয়তা দেন, বিষয়টি নিয়ে তার সরকার আন্তরিক এবং এ নিয়ে তারা কাজ করে যাবেন। এছাড়া ২২ অক্টোবর সম্প্রতি ‘সাসটেইনিং সাপোর্ট ফর দ্য রোহিঙ্গা রিফিউজি রেসপন্স’ সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রতি জাপানের সমর্থন জ্ঞাপনের কথাও উল্লেখ করেন নাওকি ইতো।
এদিকে ওআইসির নেতৃস্থানীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা বিষয়ে গাম্বিয়াকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে মিসরের প্রতি আহ্বান জানালেন ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল মিসরের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ওয়ালিদ আহমেদ সামসেলদিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে মিসরের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে সে দেশের রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেন। এ সময় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ ও মিসরের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং এক্ষেত্রে দুই দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন ড. মোমেন। তিনি মিসরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বানও জানান। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ বাংলাদেশীদের মিসর কাজে লাগাতে পারবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
মিসরকে বাংলাদেশে পেট্রো-কেমিক্যাল শিল্প স্থাপনের অনুরোধ করেন ড. মোমেন। এ বিষয়ে মিসর আগ্রহী বলে রাষ্ট্রদূত জানান। এ সময় মিসরের রাষ্ট্রদূত বলেন, সে দেশের আলেকজান্দ্রিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে বাংলাদেশের দুজন বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করেছেন। মিসরের পেঁয়াজ বাংলাদেশে রফতানি করা হচ্ছে বলে ওয়ালিদ আহমেদ সামসেলদিন উল্লেখ করেন।
এ সময় দুই দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সফর বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে মিসর সফর করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।