শাহবাগে অবরোধকারীদের সঙ্গে ‘প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের’ হাতাহাতি, পুলিশের লাঠিপেটা

শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আহতরা এসে শাহবাগে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দিয়েছে। এরপর শাহবাগ হয়ে চারপাশের সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

রাজধানীর শাহবাগে অবরোধকারীদের সঙ্গে ‘প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা এক দল তরুণের হাতিহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশের লাঠিপেটায় শাহবাগ ছাড়েন অবরোধকারীরা। শুক্রবার (১ আগস্ট) বিকাল থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মূলত জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রের দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান চালিয়ে আসছিলেন ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধার’ ব্যানারে একদল ব্যক্তি। তারা শাহবাগ মোড়ের চারপাশে ব্যারিকেড দিয়ে সড়ক আটকে দিলে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল থেমে যায়। আন্দোলনকারীরা জুলাই সনদের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।

পরদিন শুক্রবার বৃষ্টি মধ্যেই শাহবাগ মোড়ে অবস্থান অব্যাহত রাখেন তারা। সেখানে ত্রিপল পেতে জুম্মার নামাজ আদায় করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ‘চালিয়ে যাওয়ার’ ঘোষণা দেন তারা। এর মধ্যে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ‘প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করা একদল তরুণ এসে শাহবাগ থেকে অবরোধকারীদের সরে যেতে বলেন। ওই তরুণরা ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলেন। অবরোধকারীদের উদ্দেশ্যে তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। তারা অবস্থানকারীদের মাইক বন্ধ করতে বলেন। সে সময় সড়কে বিছানো ত্রিপল সরিয়ে ফেলতে দেখা যায়।

এক পর্যায়ে অবরোধকারীরাও তরুণদের দলটিকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দেন। উভয় পক্ষ একে অপরের ‘জুলাই যোদ্ধার’ পরিচয়পত্র দেখতে চান। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে কয়েক দফা হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অবরোধকারীদের ওপর কয়েক দফা লাঠিচার্জ করে। এরপর শাহবাগ অবরোধকারীদের বানানো মঞ্চটি ভেঙে ফেলা হয়।

শাহবাগকে অবরোধমুক্ত করতে আসা এক যুবকের জানান, তারা (অবরোধকারীরা) একটি মব সৃষ্টির জন্য এখানে অবস্থান নিচ্ছিল, এটা শেখ হাসিনার প্ল্যান। আমরা প্রকৃত জুলাইযোদ্ধা। আমরা জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের। কেন শাহবাগের মত একটা জায়গা বন্ধ করে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলতে হবে? আমরা এসে তাদেরকে ব্লকেডটা ছেড়ে দিতে বলেছিলাম, কিন্তু তারা রাজি হচ্ছিল না। পরে আমরা পুলিশের সহায়তায় তাদের সরিয়ে দিয়েছি।

শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর বণিক বার্তাকে বলেন, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আহতরা এসে শাহবাগে অবস্থানকারীদের সরিয়ে দিয়েছে। এরপর শাহবাগ হয়ে চারপাশের সড়কে যান চলাচল শুরু হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

আরও