নভেল করোনাভাইরাস

মেহেরপুরে সীমিত হচ্ছে মুজিবনগর দিবসের আয়োজন

চলমান নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মেহেরপুরে সীমিত পরিসরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে এ বছর কোনো আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়নি।

চলমান নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মেহেরপুরে সীমিত পরিসরে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে এ বছর কোনো আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়নি।

এদিকে দেশ স্বাধীনের পর এবারই সীমিত পরিসরে দিবসটির আয়োজন করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  অন্য বছর দিবসটি উপলক্ষে এক মাস আগে থেকেই আলোচনা ও প্রস্তুতিমূলক সভা হতো।  এমনকি প্রস্তুতিমূলক সভা করা হতো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও। বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেয়া হতো জেলাজুড়ে। প্রধানমন্ত্রী না থাকলেও প্রায় হাফ ডজন মন্ত্রীসহ বিভিন্ন প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকতেন এ দিবসে। মুজিবনগরসহ জেলাজুড়ে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ভরে থাকত। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। কোথাও কোনো পোস্টার নেই, ব্যানার ও ফেস্টুনের দেখা মেলেনি কোথাও। 

প্রথম সরকারের গার্ড অব অনার প্রদানকারী আনসার সদস্য আজিমদ্দীন শেখ জানান, প্রতি বছর এপ্রিল এলে দিবসটির আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন কর্মকর্তারা। কিন্তু এবার এ রকম কোনো বিষয় চোখে পড়েনি।

গার্ড অব অনার প্রদানকারী আরেক আনসার সদস্য সিরাজ উদ্দীন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এই দিনে আমরা ১২ জন আনসার সদস্য গার্ড অব অনার প্রদান করেছিলাম। সেই থেকে প্রতি বছরই আমরা দিবসটি পালন করে আসছি। এবার করোনার কারণে কিছু হচ্ছে না। এই দিনে মন্ত্রীরা আমাদের সংবর্ধনা দেন। কিন্তু এবার এ রকম কোনো অনুষ্ঠানই হচ্ছে না।

মুজিবনগর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আলিফ হোসেন বলেন, দিবসটি উপলক্ষে মুজিবনগরে হাজারো মানুষের আগমন ঘটে। জেলাজুড়ে যেন উৎসবে রূপ নেয়। কিন্তু স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো প্রকার জনসমাগম ছাড়াই দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে। বিষয়টি কষ্টের কিন্তু কিছুই করার নেই।  

মেহেরপুর জেলা প্রশাসক আতাউল গনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমিত পরিসরে দিবসটি পালন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে প্রত্যুষে তোপধ্বনি, পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হবে। কোনো আলোচনা সভা করা হবে না। তবে বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের শপথ হয় মেহেরপুরের তত্কালীন বৈদ্যনাথ তলায়। স্বাধীনতা-পরবর্তীতে এ স্থানটির নাম হয় মুজিবনগর। সেই সঙ্গে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রতি বছরই নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

আরও