‘ক’ শ্রেণীর বগুড়া পৌরসভার ২১ শতাংশ সড়কই কাঁচা

বগুড়া পৌরসভার অধীন প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ২১ শতাংশের বেশি সড়কই কাঁচা।

বগুড়া পৌরসভার অধীন প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ২১ শতাংশের বেশি সড়কই কাঁচা। এছাড়া মোট সড়কের মধ্যে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পাকা থাকলেও বেশির ভাগই ভাঙা।

পৌরসভার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘ক’ শ্রেণীর পৌরসভা হলেও বর্ষায় কাদাপানি আর শুকনো মৌসুমে ঝাঁকুনি নিয়েই তাদের পথ চলতে হয়। গর্তে ভরা এসব সড়কে প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। অনেক সময় বিকল হচ্ছে যানবাহন।

বগুড়া পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বগুড়া পৌরসভা। কালক্রমে আয়তন বাড়তে বাড়তে এখন ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার। ২১ ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া পৌরসভার জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। ‘ক’ শ্রেণীর এই পৌরসভার আয়তন বড় হলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় অন্যান্য পৌরসভার মতোই বরাদ্দ পায়। জেলার অন্য ১২ পৌরসভার মতোই এ পৌরসভারও বাজেট সমান। বগুড়া পৌরসভায় কার্পেটিং রাস্তা আছে ৩১০ কিলোমিটার। এছাড়া কাঁচা সড়ক রয়েছে প্রায় ২৮৬ কিলোমিটার। সিসি, আরসিসি, সোলিংসহ অন্য আরো প্রায় ৭৪৪ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০ কিলোমিটার পাকা সড়কের বেশির ভাগই ভাঙা। পৌর এলাকার হাকির মোড়, উপশহর, আজীজুল হক কলেজ-নূরানী মোড় সড়ক, মালতিনগর নামাপাড়া, চেলোপাড়া-চন্দনবাইশা, ধরমপুর, জহরুলনগর, জাহেদ মেটাল মোড়, নিশিন্দারা কামারগাড়ি-হাড্ডি পট্টি, খান্দার, ঠনঠনিয়া দক্ষিণপাড়া, পশ্চিমপাড়া, বউবাজার নাপিতপাড়া, নারুলী, সাবগ্রাম, কারমাইকেল সড়কগুলো গর্তে ভরা। সড়কের পাশের ড্রেনও নষ্ট হয়ে গেছে।

পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। পথচারীকে যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। কাঁঠালতলায় সড়কের ওপর বাজার এবং ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। পথচারীকে বছরজুড়েই যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কাঁঠালতলার পুরো সড়ক দখল করে আছেন ব্যবসায়ীরা। বগুড়া পৌরসভার নির্বাচিত পৌরমেয়র ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা থাকায় তিনিও কার্যালয়ে আসছেন না। যে কারণে বগুড়া পৌরসভার অনেক উন্নয়নকাজ থমকে আছে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কাউন্সিলরাও আত্মগোপনে থাকায় ওইসব এলাকার বাসিন্দার দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।

বগুড়া উপশহরের বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, সড়কগুলো ভাঙা। দিনে চলাচল করলেও রাতে আলো কম থাকায় গর্তে পড়ে অনেকেই আহত হন। দীর্ঘদিন সড়ক ভাঙা থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সড়ক সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কাজ হয়নি।

বগুড়া শহরের বাসিন্দা জাহেদুর রহমান জানান, পৌর এলাকার সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। অথচ পৌরসভা থেকে সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বর্ষাকালে পানি জমে থাকে দীর্ঘ সময়। ফুটপাতের নিচে থাকা ড্রেনেজ ব্যবস্থাও ভঙ্গুর। নিষ্কাশনের অভাবে ড্রেনের পানি উপচে সড়ক দিয়ে বয়ে যায়। বর্ষায় থাকে কাদাপানি আর শুষ্ক মৌসুমে ঝাঁকুনি নিয়ে তাদের পথ চলতে হয়।

বগুড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। সড়কগুলো মেরামতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায় না। বগুড়া পৌরসভার বেশির ভাগ সড়ক মেরামত প্রয়োজন। শহরের বেশকিছু সড়কের অবস্থা খুব খারাপ হলেও স্বল্প বরাদ্দ দিয়ে অনেকগুলো সড়ক সংস্কার করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো সড়ক নির্মাণের পর সংস্কারই হয়নি। অনেক স্থানে বা সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। তার পরও যতটা সম্ভব হয় পৌরসভা থেকে সড়কগুলো সংস্কার করা হয় বলে জানান পৌরসভার প্রকৌশলীরা।

এ বিষয়ে বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র পরিমল চন্দ্র জানান, যে সড়কগুলো সংস্কার করা হয়নি এবং ভেঙে গেছে সেসব সড়ক পর্যায়ক্রমে মেরামত করা হবে। পৌরবাসীর সেবায় পৌরসভা কাজ করে যাবে।

আরও