বান্দরবানে নির্মাণ শেষের আগেই ডেবে গেছে সড়ক

বান্দরবানের কয়েকটি দুর্গম ইউনিয়নের মধ্যে একটি তিন্দু ইউনিয়ন। একসময় এ ইউনিয়নসহ রেমাক্রী ইউনিয়নে যাতায়াতের একমাত্র ব্যবস্থা ছিল সাঙ্গু নদের নৌপথ।

২০১৩-২০ সাল পর্যন্ত সাত বছর মেয়াদে থানচি থেকে তিন্দু ইউনিয়ন সড়কের গোড়াপত্তন ঘটায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড (পাচউবো)। ২০২৪ সালে তিন্দু ইউনিয়ন সড়কটি কার্পেটিংয়ের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), যা গত বছরের জানুয়ারিতে শেষ হয়েছে বলে এলজিইডি বান্দরবান কার্যালয়ের ওই মাসের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাত মাসের বেশি সময় ধরে থানচি-তিন্দু সড়কটির কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই ফেলে রাখা হয়েছে। এছাড়া কার্পেটিং, আরসিসি ঢালাই ও ড্রেন নির্মাণ করা হলেও সম্প্রতি ড্রেনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো স্থানে পুরোপুরি ভেঙে গেছে। এছাড়া সড়কের কোসো কোনো স্থানে ডেবে গেছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দুই প্যাকেজে থানচি-তিন্দু সড়ক কার্পেটিংয়ের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ১০ কোটি ৩১ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে প্রথম চার কিলোমিটারের কাজ পায় মি. ইউটিংমং ও ৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার চুক্তিমূল্যে ৩ দশমিক ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির কাজ পেয়েছে মেসার্স এমএম ট্রেডার্স। দুই প্যাকেজে সড়কের কাজ বাস্তবায়ন করছেন উপঠিকাদার মো. আনিসুর রহমান সুজন। ২০২৪ সালের মে মাসে দুটি প্যাকেজেরই কার্যাদেশ দেয়া হয়। গত বছরের জানুয়ারি মাসে প্যাকেজ দুটির কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিলও শতভাগ পরিশোধ করা হয়েছে।

সড়কের সার্বিক বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দেননি এলজিইডি বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান। সড়কটি নির্মাণে প্রথম করা প্রাক্কলনে ত্রুটি থাকায় সংশোধিত প্রাক্কলন অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন না পাওয়ায় অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী পারভেজ সারোয়ার হোসেন।

তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ফাটল ধরা ও ভেঙে যাওয়া ড্রেনসহ সড়কের ডেবে যাওয়া অংশগুলো পুনরায় নির্মাণ বা মেরামত না করলে চূড়ান্ত বিল দেয়া হবে না।’

তার দাবি, প্রথম প্যাকেজটির ৮৫ শতাংশ ও দ্বিতীয় প্যাকেজের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দুই প্যাকেজ মিলে ৮০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

সড়কসংলগ্ন আবোওয়াপাড়া ও মেলেঙ্গ্যাপাড়ার বাসিন্দারা জানায়, গত বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সড়কের বেশি ঢালু অংশগুলোতে আরসিসি ঢালাই ও কম ঢালু অংশগুলোতে কার্পেটিং করা হয়। কিন্তু তিনটি স্থানে কিছুই করা হয়নি। ওই তিনটি স্থান মিলে প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। আরসিসি ঢালাই ও কার্পেটিং করার আগে ও পরে মিলে সড়কের উভয় পাশে ড্রেন করা হয়। কিন্তু দুই মাসের মধ্যে ড্রেনগুলোর বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। কোনো কোনো স্থানে ড্রেন পুরোপুরি ভেঙে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সড়কটি যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলের অনুপযুক্ত।

অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের (পাচউবো) করা সড়কটি কবে কীভাবে এলজিইডি তাদের আইডিভুক্ত করেছে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো. ইয়াসির আরাফাত। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আইডিভুক্ত করার বিষয়ে চিঠি দিলেও কখনো সমন্বয় করেনি এলজিইডি। এর আগে কোনো সমন্বয় না করে তাদের আইডিভুক্ত দেখিয়ে জেলা সদর ইউনিয়নের লেমুঝিরি সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ হাতে নেয় প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় এলজিইডির ওই কাজ বাতিল করিয়ে পাচউবো সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ বাস্তবায়ন করে।’

আরও