নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় জেল খাটতে কেমন লাগে’—এমন কৌতূহল থেকেই কয়েকজন কিশোর পরিকল্পনা করে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চয় কিশোরকে গ্রেফতার করার পর এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জনের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, অভিযুক্তরা সবাই কিশোর। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকায় একটি বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দিত। সেখানে তারা মাদক সেবনের পাশাপাশি ছোরা-চাকুও মজুদ রাখত। তাদের মধ্যে তিন কিশোর ঘটনার দিন রেলস্টেশন এলাকায় বসে আলোচনা করে—কীভাবে জেল খাটার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, খুন করলে জেলে যাওয়া সম্ভব। এই বিকৃত কৌতূহল থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। এর কিছুক্ষণ পর ১১ বছর বয়সী হোসাইন পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে তাকে টার্গেট করা হয়। কৌশলে গাঁজা খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে আড্ডাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল আরো তিন কিশোর। তাদের পরিকল্পনার কথা জানালে তারাও এতে সম্মতি দেয়। পরে সবাই মিলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হোসাইনের ওপর হামলা চালায়। হোসাইন কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন মিলে তাকে চেপে ধরে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ‘হোসাইনকে হত্যার পর কিশোরেরা আবার রেলস্টেশনে ফিরে গিয়ে মাদক সেবন করে। পরে আরেক কিশোরকে ঘটনাটি জানানো হয়। তাকে মৃতদেহের অবস্থান ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়। কয়েক দিন পর ঘটনাটি ধীরে ধীরে জানাজানি হয়। ’
গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত মো. হোসাইন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়া চর তক্কার মাঠ এলাকার সুমন মিয়ার ছেলে। সে বাবার সঙ্গে শহরে ফুল বিক্রি করত। এ ঘটনায় হোসাইনের বাবা বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন।