ভালুকায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিন ভাই-বোনের মৃত্যু

মৃত সন্তানদের লাশ দেখে প্রতিবেশিরাও কাঁদছেন অঝোরে

ময়মনসিংহরে ভালুকা উপজেলায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সহোদর তিন ভাই বোনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার সিডস্টোর উত্তর বাজারের কাজী অফিসের পাশে একটি টিনশেড বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

মারা যাওয়া শিশুরা হলো- সাদিয়া (৮), নাদিয়া (৫) ও রায়হান (২)। সুমন সপরিবারে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। হৃদয়বিদারক ওই ঘটনাটি দেখতে রাতেই আশপাশের হাজারো মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রাতে ওই বাড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখান থেকে তিন শিশুর পোড়া লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। 

এদিকে, একসঙ্গে তিন শিশু সন্তানের পোড়া লাশ দেখে কথা বলতে পারছিলেন না তাদের মা বাবা। বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন তারা। মৃত সন্তানদের লাশ দেখে প্রতিবেশিরাও কাঁদছেন অঝোরে। এমন মৃত্যু যেনো আল্লাহ কাউকে না দেন। অবুঝ শিশুদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু যেনো আর কোনো বাবা-মা না দেখেন। কেঁদে কেঁদে কথাগুলো বলছিলেন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া তিন সন্তানের মা গার্মেন্টসকর্মী মদিনা বেগম। 

তিনি বলেন, সন্ধ্যায় সন্তানদের বাসায় রেখে ফ্যাক্টরিতে চলে যাই। আগুনের খবর শুনে দ্রুত ফ্যাক্টরি হতে ছুটে আসি। এসেই শিশু সন্তানদের পোড়া লাশ দেখতে পাই। কথা বলার সময় বার বার অজ্ঞান হয়ে পড়ছিলেন মদিনা বেগম। 

ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন মাস্টার আল মামুন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনে গার্মেন্টসকর্মী দম্পতির তিন শিশু সন্তানসহ পাঁচটি পরিবারের সকল কিছু পুড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। 

ভালুকা মডেল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার দীপসন্ন গ্রামের সুমন মিয়া ও তার স্ত্রী মদিনা বেগম সিডস্টোর উত্তর বাজার এলাকায় প্রবাসী শহীদ মিয়ার বাড়িতে থেকে স্থানীয় গার্মেন্টে কাজ করতো। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শিশু তিন সন্তানকে ঘরে রেখে বাইরে যায় ওই দম্পতি। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই বাড়িতে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ আগুনে ওই দম্পতির তিন শিশু সন্তান আগুনে পুড়ে মারা যায়। নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

ইউএনও সালমা খাতুন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তিন লাশ দাফন এর জন্য ৩০ হাজার টাকা সরকারি ভাবে দেয়া হয়েছে।

আরও