দেশের চিনিকলগুলোয় আখ সংকট দূর করতে এবার আখের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। চলতি মৌসুমে মণপ্রতি ৪০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া আগামী বছরের জন্য আরো ২০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪০ টাকা মণ। আখের মূল্যবৃদ্ধিতে আখ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন নাটোরের দুটি চিনিকল এলাকার চাষীরা। এবার চাষীরা পর্যাপ্ত আখ সরবরাহ করলে আবারো চিনিকল দুটি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া।
নাটোর সদর উপজেলার চকআমহাটি এলাকার আখচাষী খোরশেদ আলম। মূল্য বৃদ্ধির খবরে বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন তার জমির আখের ওপর। জোটবদ্ধভাবে আখ বেঁধে দেয়ার পাশাপাশি আগাছা পরিষ্কার করতে ব্যস্ত এ আখচাষী। কথা হয় খোরশেদ আলমের সঙ্গে। তিনি জানান, মূল্য বৃদ্ধির কারণে প্রতি বিঘায় ৫০-৬০ হাজার টাকার আখ বিক্রি হবে। পাশাপাশি আগামী বছর আরো দুই বিঘা বাড়তি জমিতে আখ চাষ করবেন তিনি।
নাটোর আখচাষী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিকুল ইসলাম রুবেল জানান, আখ সংকটে যেন চিনিকল বন্ধ না হয়, সে কারণে চাষীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আখের মূল্য বৃদ্ধি করেছে সরকার। এতে আশার আলো দেখছেন চাষীরা। তবে আখের মূল্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করার দাবি তার।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের আগস্টে আখের মূল্য বৃদ্ধি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিল্প মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমের জন্য আখের দাম কুইন্টালপ্রতি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তাতে প্রতি কেজি আখের দাম বেড়েছে ১ টাকা করে। ফলে আগামী মাড়াই মৌসুমে কৃষক মিলগেটে প্রতি মণ আখ ২২০ ও বহিঃকেন্দ্রে প্রতি মণ আখ ২১৬ টাকা দরে বিক্রি করতে পারবেন। পরের মৌসুম অর্থাৎ ২০২৪-২৫ মাড়াই মৌসুমের জন্যও আখের আগাম দাম ঘোষণা করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। তাতে মিলগেটে প্রতি মণ আখের দাম ২২০ থেকে বাড়িয়ে ২৪০ টাকা করার কথা জানানো হয়েছে।
একসময় নাটোর চিনিকল জোনে ২০ হাজার এবং নর্থবেঙ্গল চিনিকল জোনে ৩০ হাজার একর জমিতে আখ চাষ করতেন চাষীরা। কিন্তু দিন দিন সে পরিমাণ কমতে থাকে। বর্তমানে নাটোর চিনিকলে ৪ হাজার ৮০০ এবং নর্থবেঙ্গল চিনিকলে প্রায় পাঁচ হাজার একর জমিতে আখ চাষ হচ্ছে।
নাটোর চিনিকলের আখ মাড়াই মৌসুমের ১০০ দিনের জন্য প্রয়োজন হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টন আখ। পাশাপাশি নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের ১২০ দিনের জন্য প্রয়োজন হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টন। কিন্তু মিল দুটি গত পাঁচ বছর ধরে পাচ্ছে চাহিদার তিন ভাগের এক ভাগ আখ। ফলে প্রতি বছরই লোকসান গুনছে মিল দুটি। তবে আখের মূল্য বৃদ্ধির কারণে চাষীরা আগ্রহী হয়ে আবারো মিলে আখ সরবরাহ করলে মিল দুটি ঘুঁরে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছেন নাটোর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া।
বর্তমানে আখ সংকটের পাশাপাশি লোকসানের কারণে দেশের ১৫টি চিনিকলের মধ্যে বন্ধ রয়েছে ছয়টি। বাকি নয়টি মিলে উৎপাদন হয় প্রায় ২৫ হাজার টন চিনি। এর মধ্যে নাটোরের দুটি মিলে ২০২১-২৩ মৌসুমে চিনি উৎপাদন হয়েছে প্রায় নয় হাজার টন।