এটি বর্তমানে খুলনার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রাণীটিকে ১২ জুলাই সুন্দরবনের বাগেরহাটের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে। অবমুক্ত করার পর বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সুন্দরবনে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনা কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ’১০-১১ বছর বয়সের বাঘিনীটি এখন পুরোপুরি সুস্থ। হারানো ক্ষিপ্রতা ও গতি ফিরে পেয়েছে। উদ্ধার করার সময় এটি কংকালসার ছিল। ওজনও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।’
নির্মল কুমার বলেন, ‘বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ে প্রায় তিন ইঞ্চি জায়গাজুড়ে চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফাঁদের রশিতে বারবার টানাটানির কারণে ক্ষতস্থানে পচন ধরেছিল। অ্যান্টিবায়োটিক ও নিয়মিত ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে মার্চের দিকে ক্ষত শুকিয়ে আসে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল মেডিকেল বোর্ডের সভা ছিল। শনিবার বাঘ বিশেষজ্ঞদের একটি দল আসবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে ১২ জুলাই বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হতে পারে। অবমুক্ত করার পর বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে বন বিভাগ।’
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘সুস্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জুলাইয়ে মধ্যেই বাঘিনীটিকে বনে ফিরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতার কারণে স্যাটেলাইট কলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বাঘিনীটির বিচরণ এলাকায় প্রায় আট কিলোমিটারজুড়ে প্রাথমিকভাবে ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে।’
তিনি জানান, ১২ জুলাই বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করার সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের পূর্ব অংশের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটির ফাঁদে আটকে পড়ার খবর পায় বন বিভাগ। পরদিন ট্রাঙ্কুইলাইজার গান ব্যবহার করে এটিকে অচেতন করে উদ্ধার করা হয়। পরে ফাঁদ কেটে লোহার খাঁচায় করে খুলনায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়।