পাহাড়ে বর্ষবরণের সূচনা

রাঙ্গামাটিতে শুরু হলো ৫ দিনব্যাপী বিজু মেলা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পিছিয়ে থাকলে দেশও পিছিয়ে থাকবে। দেশের কোনো অঞ্চলে বৈষম্য না রাখার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। পাহাড় ও সমতল সমানভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসবকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটিতে ৫ দিনব্যাপী বিজু মেলা শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পাহাড়ে বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলো।

আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকালে রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন। মেলাটি স্থানীয়ভাবে বিজু মেলা নামে পরিচিত।

চলছে বিজুর প্রস্তুতি

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান অনুপ কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি অঞ্চলের সেনা কমান্ডার মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক জিতেন চাকমাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম পিছিয়ে থাকলে দেশও পিছিয়ে থাকবে। দেশের কোনো অঞ্চলে বৈষম্য না রাখার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। পাহাড় ও সমতল সমানভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বিজু উৎসব সবাইকে এক করে এবং ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। এ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে এবং উন্নয়নের ধারায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, বিজু উৎসবের মাধ্যমে দেশের বহুজাতিক সংস্কৃতি দেশ ও বিশ্বের সামনে তুলে ধরা সম্ভব। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে এ আয়োজন পালন করবেন।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, এ মেলার মাধ্যমে পাহাড়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হচ্ছে। সংস্কৃতি যত সমৃদ্ধ হবে, তত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে উদ্বোধনের পর আলোচনা সভা হয়। পরে গরিয়া নৃত্য, বাঁশ খরম দিয়ে হাঁটা, ঘিলা খেলা, লাটিম খেলা ও পাজন রান্না প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় ম্রো সম্প্রদায়ের নাটক রিনাফ্লুং ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

আয়োজকেরা জানান, ৬ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত মেলা চলবে। এবারের মেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অলংকার ও খাবার নিয়ে প্রায় ১০০টি স্টল বসানো হয়েছে।

আগামী ১২ থেকে ১৪ এপ্রিল পাহাড়ে বর্ষবরণের মূল আয়োজন শুরু হবে। ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজু ও ত্রিপুরাদের হারি বৈসু পালিত হবে। এদিন নদীর পাড়ে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল নিবেদন করা হবে। ১৩ এপ্রিল চাকমা বিজু ও ত্রিপুরাদের বৈসু মা উদযাপিত হবে এবং ঘরে ঘরে পাজন পরিবেশন করা হবে। ১৪ এপ্রিল নতুন বছর উদযাপন করা হবে, যা চাকমাদের গোজ্যেপোজ্যে দিন এবং ত্রিপুরাদের বিসিকাতাল নামে পরিচিত। শেষে মারমাদের সংগ্রাই জল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

এ আয়োজন ঘিরে তিন পার্বত্য জেলায় ইতোমধ্যে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং পাড়া-মহল্লায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

আরও