ইউপি চেয়ারম্যান-ইউএনও দ্বন্দ্ব

চার মাস ধরে স্থবির শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যকার দ্বন্দ্বে দীর্ঘ চার মাস ধরে অচল হয়ে আছে ৪ নম্বর শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ।

প্রকল্প বরাদ্দ ও কমিশনের টাকা নিয়ে শুরু হওয়া এ বিরোধের জেরে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

ঘটনার শুরু গত বছরের অক্টোবরে। শালবাহান হাটের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ এবং কমিশনের ১৫ শতাংশ টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে ইউএনও আফরোজ শাহিন খসরু ও ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি থানা পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন পর্যন্ত গড়ায়। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা থাকার অজুহাতে তাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া হয়। যদিও বর্তমান জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন তদন্ত করে দেখেছেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো সাজা না থাকায় অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। তবু দীর্ঘ চার মাস ধরে চেয়ারম্যানকে দাপ্তরিক কাজে অংশ নিতে দেয়া হচ্ছে না।

চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব পালনে বিরত রাখা এবং ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড না দেয়ায় জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, গরু বিক্রির অনুমোদন ও হাট-বাজার ইজারার মতো জরুরি সেবাগুলো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সরজমিনে দেখা গেছে, ইউপির অধিকাংশ কক্ষ তালাবদ্ধ। গরুর পারমিট নিতে আসা আনার উদ্দিন বলেন, ‘‌তিনবার এসেও কাউকে পাইনি। কাল হাটে গরু নিয়ে যাব, কিন্তু পারমিট না পাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হবে।’ স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, চেয়ারম্যান ও ইউএনওর দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর। চার মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। হালিমা খাতুন নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী আক্ষেপ করে বলেন, ‘‌চেয়ারম্যান না থাকায় বেতন পাচ্ছি না। অভাব-অনটনে কখনো এক বেলা খেয়ে, কখনো না খেয়ে দিন কাটছে।’

চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের দাবি, মন্ত্রণালয় বা জেলা প্রশাসন থেকে তাকে বহিষ্কারের কোনো চিঠি দেয়া হয়নি। শুধু ইউএনওর মৌখিক আদেশে তাকে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘‌আমাকে পাসওয়ার্ড বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে না, কোনো সনদে স্বাক্ষর করতে পারছি না। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল হয়ে আছে।’

অন্যদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু ১৫ শতাংশ কমিশনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই এবং এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

আরও