উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আমহাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তিনি হাটে এসে বিভিন্ন আমের আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখেন।
হাট পরিদর্শনের সময় ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি ব্যবসায়ী ও আমচাষিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ পরখ করে দেখেন।
হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ সফরে তারা আনন্দিত। তারা আশা করছেন, এতে রাজশাহীর আম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো পরিচিতি পাবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, রাজশাহীর আমের গুণগত মান ও স্বাদ বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিদেশী কূটনীতিকদের এ ধরনের পরিদর্শন দেশের কৃষিপণ্য রফতানির সম্ভাবনাকে আরো এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি তার প্রথম রাজশাহী সফর। ২০২০ সালে একবার রাজশাহীতে এলেও এবার তিনি বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছেন। রাজশাহীর আমের অভিজ্ঞতা নিতে পেরে তিনিও আনন্দিত বলে জানান।
আমের হাট পরিদর্শনে এসে বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ পরখ করে দেখেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন
ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছেন। কোনো পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেখানে গিয়ে সেটি দেখার ও স্বাদ নেয়ার অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা হয় না। সেখানে সবচেয়ে তাজা ও বৈচিত্র্যময় পণ্য পাওয়া যায়।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষও আম পছন্দ করে। তবে সেখানে বেশির ভাগ সময় হিমায়িত আম পাওয়া যায়, যা দিয়ে শরবত তৈরি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে আম পাওয়া গেলেও রাজশাহীর মতো এত তাজা আম সেখানে পাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান ক্রিস্টেনসেন।
বাংলাদেশের আম রফতানির সম্ভাবনা বাড়াতে হিমাগার ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, সারা বছর আম সংরক্ষণ ও রফতানি বাড়াতে দেশের হিমাগার ব্যবস্থা আরো উন্নত করা প্রয়োজন। এতে হিমায়িত আম রফতানির সুযোগ বাড়বে এবং সারা বছর আমের বাজার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
আমের হাট পরিদর্শনের সময় ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে মার্কিন রাজনৈতিক কাউন্সেলর এরিক গিলান, রাজনৈতিক কর্মকর্তা চার্লস বেসনার্ডসহ দূতাবাসের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।