রংপুর বিভাগীয় রেলস্টেশনের সম্পত্তি সংরক্ষণে কাজ করছেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) রংপুর ইউনিটের সদস্যরা। রেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও নিজেরাই রয়েছেন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে। রেলের নিজস্ব এ বাহিনীর নেই নিজস্ব অফিস ও ব্যারাক। ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তারা। পর্যাপ্ত লোকবল সংকটও রয়েছে।
লালমনিরহাট রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাব ইউনিট হচ্ছে রংপুর। লালমনিরহাট আরএনবি ইউনিটের কমান্ডিং অফিসার শফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রংপুর রেলস্টেশনটি বিভাগীয় শহরে অবস্থিত হওয়ায় এখানে চাপ সবসময় বেশি থাকে। ভিআইপিদের আনাগোনা বেশি হয়। তখন তাদের ডিউটি করতে হয়। তাই বিদ্যমান লোকবল দিয়ে রেলের স্বার্থ রক্ষা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি তারা লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এছাড়া তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে একাধিকবার জানানো হয়েছে।’
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগীয় রেলস্টেশন দিয়ে প্রতিদিন তিন জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস এবং দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস চলাচল করে। এছাড়া লোকাল (কমিউটার) ৬১ ও ৬২ নম্বর ট্রেন, লোকাল ৪৬১ ও ৪৬২ নম্বর ট্রেনসহ আরো কয়েকটি লোকাল ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। দিনে ও রাতে এ স্টেশন দিয়ে প্রায় তিন হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করে। রেল চলাচলে যেকোনো বাধা দূর, রেলের সম্পত্তি রক্ষা ও সংরক্ষণ করেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যরা। কিন্তু লোকবলের অভাবে আরএনবি রংপুর ইউনিটের বিদ্যমান সদস্যদের পক্ষে বিভাগীয় রেলস্টেশনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
রংপুর রেলস্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট শংকর গাঙ্গুলী বলেন, ‘রেলের যে ভবনটিতে আরএনবি ইউনিটের অফিস সেটি অনেক আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী রংপুর ইউনিটের লোকবল বলতে ছয়জন সিপাহি ও একজন এএসআই রয়েছেন। তবে হাবিলদারের পদটি দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর শূন্য। ইউনিটটির নেই নিজস্ব অফিস। ব্যারাক দূরের কথা রেলের একটি পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন আরএনবি রংপুর ইউনিটের সদস্যরা।
সিপাহি আলম বাদশা বলেন, ‘রংপুর রেলস্টেশনে অনেক লোকের আগমন হওয়ায় চাপ সবসময় বেশি থাকে। এছাড়া স্টেশনের চারদিকে আটটি দরজা সবসময় খোলা থাকায় লোকজন খুব সহজে স্টেশনে প্রবেশ করতে পারে। এজন্য খুব সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হয়। মাত্র ছয়জন সিপাহি দিয়ে চেকিংসহ নিরাপত্তা রক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। অনেক সময় দুর্বৃত্তদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। দুজন করে তিন শিফটে তারা ডিউটি করেন। তবে যদি কেউ অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটি নেন তখন একজনের পক্ষে রেলস্টেশন ও একসঙ্গে প্রবেশ করা একাধিক ট্রেনের ভেতরে নজরদারি কঠিন হয়ে পড়ে। আবার লোকবলের অভাবে সকাল থেকে বিরতিহীন রাত পর্যন্ত ডিউটি করতে হচ্ছে কাউকে কাউকে।’
আরএনবি রংপুর ইউনিটের ইনচার্জ এএসআই জুয়েল মণ্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রংপুর বিভাগীয় রেলস্টেশন হওয়ায় সবসময় চাপ অনেক বেশি থাকে। অথচ তাদের কোনো ব্যারাক নেই। অফিস বলতে রেলের একটি পরিত্যক্ত ভবনের কক্ষ। মাত্র ছয়জন সিপাহি দিয়ে রেলের স্বার্থ সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বিনা টিকিটে ভ্রমণের অপরাধে ৫০-৬০ জনকে আটক করাসহ জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। গত বছর টিকিট কালোবাজারি এবং রেলের সম্পত্তি চুরির অপরাধে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি। বিভাগীয় শহর হওয়ায় প্রায় সময়ই ভিআইপিদের জন্য ডিউটি করতে হচ্ছে। হাবিলদার পদটি শূন্য হলেও আজও পদটি আর পূরণ করা হয়নি। ফলে তাকেই দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি সিপাহিদের কাজের তদারকি করতে হচ্ছে। আমাদের পেশাটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও ঝুঁকি ভাতা পাই না। এমনকি রেশনও দেয়া হয় না।’