সৌদি থেকে সার আমদানির অনিশ্চয়তা কাটেনি, বিকল্প উৎসে জোর সরকারের

হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহনে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিসিআইসির চিঠি

পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি ইরানের অবরোধে থাকায় সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে সার আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সারবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিতে সরকারকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। সংকট মোকাবেলায় সরকার অবশ্য সারের বিকল্প উৎসও খুঁজতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নন-ইউরিয়া সার আমদানির জন্য চীন, মরক্কো ও আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং শিগগিরই চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ইউরিয়ার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পুরনো উৎসের পাশাপাশি ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে।

দেশের ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সৌদি আরব থেকে আমদানি করা হয়। চলতি বছরে সৌদি আরব থেকে ছয় লাখ টন ডিএপি আমদানির চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় প্রতি মাসে ৪০ হাজার টন করে সার আনার কথা থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে আমদানি করা হয়েছে কেবল এক লট। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে মার্চের চালান আনা হয়নি। চলতি এপ্রিলে ৪০ হাজার টন ডিএপি আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও তা নির্ভর করছে জাহাজের সময়সূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার ওপর। এছাড়া আসন্ন আমন মৌসুমকে সামনে রেখে বিসিআইসি সৌদি আরব থেকে দুই লাখ টন ইউরিয়া আমদানি করতে চায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে সারের সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরব থেকে নিয়মিত আমদানি হওয়া সার পরিবহনে জটিলতা দেখা দেয়ার শঙ্কা বাড়ছে।

সার আমদানির জন্য জাহাজ ব্যবস্থাপনার কাজটি করে থাকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। চলতি মাসে সৌদি আরব থেকে ডিএপি আমদানির জন্য জাহাজ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (চার্টারিং অ্যান্ড ট্রাম্পিং) ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হয়। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘এপ্রিলে সৌদি আরব থেকে ডিএপি আমদানির বিষয়ে আমাদের এখনো কিছু জানানো হয়নি। তাছাড়া হরমুজ প্রণালিতে অনেক জাহাজ আটকে আছে। ফলে ওই পথে পণ্য আনায় কিছু জটিলতা তো থাকছেই।’

দেশে নন-ইউরিয়া সার যেমন ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। অন্যদিকে ইউরিয়া উৎপাদন ও আমদানির দায়িত্বে রয়েছে বিসিআইসি। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী দুই-তিন মাস দেশে সারের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকবে। ফলে বর্তমান স্বল্প মজুদ দিয়েই পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব। তবে জুলাই-আগস্টে আমন ধানের বীজতলা তৈরি ও রোপণ শুরু হলে সারের চাহিদা বেড়ে যাবে।

বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে গত বুধবার পর্যন্ত ইউরিয়ার মজুদ ছিল ৩ লাখ ৫৯ হাজার টনের মতো। জুন পর্যন্ত চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার টন। তবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এ তিন মাসের আমন মৌসুমে ইউরিয়ার চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬ লাখ ৬৫ হাজার টনে। বাড়তি এ চাহিদা মেটাতে সরকার এরই মধ্যে আমদানি কার্যক্রম জোরদার করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ৬০ লাখ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ১ কোটি ৮১ লাখ টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। দেশে ধানের দ্বিতীয় প্রধান মৌসুমের আগে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে না পারলে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় তিন লাখ টন এবং আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে আরো চার লাখ টন ইউরিয়া আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই লাখ টন ইউরিয়া সৌদি আরব এবং এক লাখ টন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাওয়ার আশা করছে বিসিআইসি। সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প রুটে অন্য মাধ্যম থেকে ইউরিয়া সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করছে সরকার।

অন্যদিকে সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া আমদানি অব্যাহত রাখতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে বিসিআইসি। দেশটির সঙ্গে চলতি অর্থবছরে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির জিটুজি চুক্তি রয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে অতিরিক্ত আরো তিন লাখ টন ইউরিয়া নেয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে চুক্তিতে।

বিসিআইসি বাণিজ্যিক, উৎপাদন ও গবেষণা শাখার পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আপাতত ইউরিয়ার ঘাটতি নেই। তবে আমন মৌসুমের আগে সাত লাখ টন ইউরিয়া আমদানি করতে চায় বিসিআইসি। জিটুজি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে দুই লাখ টন এবং আরব আমিরাত থেকে এক লাখ টন আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। আর চার লাখ টন বেসরকারিভাবে আমদানি হবে। এজন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যা উন্মুক্ত করা হবে ৯ এপ্রিল।’

আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালি এড়াতে বিকল্প রুটে সার দিতে চায় জানিয়ে বিসিআইসির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘এক্ষেত্রে খরচ ও অন্য বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের জন্য সার বহনকারী জাহাজ যাতে হরমুজ প্রণালি পারি দিতে পারে সেজন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইউরিয়ার বিকল্প উৎস হিসেবে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাই দূতাবাসের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক আলোচনা চলছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের চাহিদা গিয়ে দাঁড়াবে ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টনে। এর মধ্যে ইউরিয়া ২৬ লাখ ২২ হাজার, টিএসপি ৯ লাখ ১ হাজার ৫০০, ডিএপি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার ৭০০, এমওপি ৯ লাখ ৭০ হাজার টন। এছাড়া এনপিকেএস (নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ ও সালফারের সুষম সার), জিপসাম, জিংক সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট, বোরন ও অ্যামোনিয়াম সালফেটের চাহিদা ৯ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টন ধরা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার যুগ্ম সচিব মো. খোরশেদ আলম বণিক বার্তাকে জানান, দেশে গত বুধবার পর্যন্ত ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ২০০ টন সার মজুদ ছিল। এর মধ্যে ইউরিয়া ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০, টিএসপি ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩০০, ডিএপি ৫ লাখ ৯ হাজার ৬০০ এবং এমওপি ২ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টন।

বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ সারের মজুদ আছে তা দিয়ে আগামী কয়েক মাস নিশ্চিন্তে চলে যাবে। আপাতত সারের বড় চাহিদাও নেই। আমন মৌসুমের আগে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।’

বিএডিসি ও বিসিআইসি সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব, চীন ও মরক্কো থেকে মূলত ডিএপি আমদানি করে বাংলাদেশ। ডিএপির এক-তৃতীয়াংশ এবং ইউরিয়া কেনে সৌদি আরব থেকে। টিএসপি ও ইউরিয়ার বড় উৎস দেশ মরক্কো ও চীন। বিশেষ করে মরক্কোর ওসিপি গ্রুপ বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ টিএসপি ও ডিএপি সরবরাহ করে থাকে। এমওপি সরবরাহে রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি কানাডাও পটাশসহ অন্যান্য সার সরবরাহকারী দেশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে সৌদি আরব থেকে সার আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যমান চুক্তি নবায়নের পাশাপাশি চীন, মরক্কো ও দুবাইয়ের সঙ্গে নতুন করে সার আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালি এড়াতে মরক্কো ও তুরস্ক থেকে সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে সরাসরি উৎসের পাশাপাশি তৃতীয় দেশের মাধ্যমেও সরবরাহের পথ খোলা রাখা হচ্ছে। যদিও এখনো কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চীন, মরক্কো ও আরব আমিরাতের সঙ্গে নতুন চুক্তির আওতায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টন ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি আমদানি করা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক (ক্রয়) আহমেদ হাসান আল মাহমুদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অস্থিরতা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আমদানি অনেকটাই বন্ধ, অন্যান্য দেশেরও পরিবহন ও কাঁচামাল প্রাপ্তিতে সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্য সরকার পুরনো উৎস দেশগুলোর পাশাপাশি নতুন উৎস দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে। আমরা আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত পরিকল্পনা করে এগোচ্ছি। নন-ইউরিয়ার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তিন দেশের সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে। দাম, প্রাপ্যতার নিশ্চয়তাসহ সব ঠিক থাকলে দ্রুতই চুক্তি হতে পারে।’ সৌদি আরব থেকে এপ্রিলের এক লট ডিএপি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

এপ্রিলেও বন্ধ থাকছে পাঁচ সার কারখানা: বিসিআইসির অধীনে চিটাগাং ইউরিয়া সার কারখানা, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি, ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ইউরিয়া উৎপাদন করে। এর বাইরে বহুজাতিক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডও (কাফকো) ইউরিয়া উৎপাদন করে থাকে। গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডটি চালু রেখে কাফকোসহ বাকি পাঁচটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়।

বন্ধ কারখানাগুলোয় গ্যাস সরবরাহের জন্য বিসিআইসি শিল্প মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে। তবে গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় শাহজালাল কারখানাটি বন্ধ রেখে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিটি চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়। দৈনিক ২ হাজার ৮০০ টন উৎপাদনক্ষমতার ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানাটি দুইদিন আগে চালু হয়েছে। আর গতকাল থেকে দৈনিক ১ হাজার ৩০০ টন উৎপাদনক্ষমতার শাহজালাল কারখানাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। পুরো এপ্রিল কারখানাগুলো বন্ধই থাকবে বলে জানিয়েছেন বিসিআইসির পরিচালক (বাণিজ্যিক, উৎপাদন ও গবেষণা) মো. মনিরুজ্জামান।

সারের সংকট এড়াতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং ঝুঁকি এড়াতে সময়মতো যারা সার সরবরাহ করতে পারবে এমন বিকল্প উৎস খোঁজার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা। এ বিষয়ে কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে গালফ কান্ট্রি থেকে সার আনা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। হরমুজ প্রণালি কতদিন নাগাদ স্বাভাবিক হবে সেটি কেউই জানে না। সেজন্য অন্তত ইউরিয়ার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় সার কারখানাগুলো চালু রাখা অত্যাবশকীয়। প্রয়োজনে কম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে হলেও কারখানাগুলোতে গ্যাস দিয়ে চালু রাখতে হবে। এতে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রাপ্যতার চিন্তা কমবে। এছাড়া সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প দেশ খুঁজতে হবে।’

এদিকে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজারে বেড়েছে সারের দাম। ট্রেডিং ইকোনমিকসের তথ্যমতে, টনপ্রতি ইউরিয়ার দাম ৬৯০ ডলার এবং ডাই-অ্যামোনিয়ামের ৬৯২ ডলারের ওপর। ফলে আগামী মৌসুমের জন্য সার কিনতে সরকারকে বাড়তি অর্থেরও জোগান দিতে হবে। এছাড়া জাহাজ ভাড়াও বেড়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়, বিএডিসি ও বিসিআইসি থেকেও জানানো হয়েছে নতুন করে সার কিনতে সরকারের ব্যয় বাড়বে। তবে কতটা বাড়তে পারে সেই চাহিদাপত্র এখনো প্রস্তুত হয়নি।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ বণিক বার্তাকে বলেন, এ মুহূর্তে সারের সংকট নেই। তবে সংকট যে হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে নতুন উৎসের সঙ্গে আলোচনা করছি। সারের মান, পাওয়ার নিশ্চয়তা, আর্থিক বিষয়সহ সবদিক দিয়ে বাংলাদেশ লাভবান হবে- এমন উৎসই থেকেই সার আমদানি করা হবে। এ বিষয়ে আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথেও সার আনার পরিকল্পনা আছে। এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিকল্প রুট প্ল্যানও দ্রুত নির্ধারণ হবে।

আরও