বিগত ১৭ বছরে যশোরে যে উন্নয়নের চাকা থমকে গিয়েছিল।’
আগামী ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী যশোরে আসছেন। তার যশোরে আগমন কেন্দ্র করে গতকাল বিভিন্ন প্রকল্পে উদ্বোধনীস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে খনন করা উলাশী খাল পুনঃখননের জন্য প্রধানমন্ত্রী যশোরে আসছেন। যেটা যশোরবাসীর জন্য অনেক বড় সুসংবাদ। তিনি যশোর বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উলাশী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন। সেখান থেকে ফিরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার হাতে তৈরি যশোর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি জনসভায় যোগ দেবেন।’ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গতকাল কালেক্টর সভাকক্ষে দপ্তরপ্রধানদের সভা করেছেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরাও ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা।
আরেক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রয়োজনে শহরের গ্রাহকরা বিদ্যুৎহীন থাকবে কিন্তু গ্রামে কৃষকের ফসলের মাঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যাতে কোনোভাবেই তাদের সেচের ক্ষতি না হয়। কৃষকদের প্রতি বর্তমান সরকারের যে অঙ্গীকার, যে জবাবদিহিতা রয়েছে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য আমরা সচেষ্ট রয়েছি।’
গতকাল বিকালে যশোর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কর্তৃক আয়োজিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পহেলা বৈশাখের দিন পরীক্ষামূলকভাবে ১০ জেলায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। দেশের কৃষকদের প্রতি, জনগণের প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যে অঙ্গীকার রয়েছে একে একে বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তার পরও একমাত্র কৃষকদের কথা বিবেচনা করে আমাদের সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফফ হোসেন জানান, জেলায় ৩ হাজার ৪০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে এক কেজি করে পাটের বীজ, পাঁচ কেজি এমওপি ও পাঁচ কেজি ডিওপি সার দেয়া হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা, প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন প্রমুখ।