আইনি ও কারিগরি অসংগতি রেখেই লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে চুক্তি

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে পরিচালনার জন্য এপি মোলার মায়ের্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে পরিচালনার জন্য এপি মোলার মায়ের্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। যদিও গতকাল চুক্তি স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত বন্দরের এ পিপিপি প্রকল্পের সরকারি শর্তগুলোই পূরণ হয়নি। অথচ পিপিপি আইনে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন কখনই চূড়ান্ত অনুমোদন নয়। নিয়ম অনুযায়ী শর্ত পূরণের পর (প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে সুপারিশকৃত শর্তগুলো পরিপূর্ণ করে) পুনরায় পিপিপি কমিটি ও পিপিপি কর্তৃপক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের এ ধাপ সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হওয়ায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের ভেতরে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি কেন এবং কোন ভিত্তিতে করা হলো?

শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন, যা বলা আছে নথিতে: ১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩৭তম সভায় লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্পকে পিপিপি আইন, ২০১৫-এর ধারা ১৪ এবং পিপিপি ক্রয় বিধিমালা, ২০১৮-এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী ‘নীতিগতভাবে অনুমোদনযোগ্য’ বলা হয়। তবে শর্ত ছিল লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং পাওয়া সাপেক্ষে। অর্থাৎ প্রকল্পটি এখনো চূড়ান্তভাবে অনুমোদন পায়নি, বরং শর্তাধীন পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে ১৬ নভেম্বর স্বাক্ষরিত ভেটিং রিপোর্টে ছয় দফায় আইনি ও কারিগরি অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে। লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি বিভাগ, যে বিভাগ আইনের খসড়া তৈরি, পরীক্ষা এবং সংসদ কর্তৃক পাস হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাজ পরিচালনা করে।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম বন্দরের এ লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল পিপিপি প্রকল্পের বিডার এপিএম টার্মিনালস বিভির দাখিল করা কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন শেষে কনসেশন এগ্রিমেন্টটি ভেটিংয়ের জন্য লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে পাঠানো হয়। পরে লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ সুনির্দিষ্টভাবে যেসব মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরে সেসব বাস্তবায়নের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং এপিএম টার্মিনালস বিভির মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার অনুরোধ জানায়।

কী আছে ভেটিং রিপোর্টে: প্রকল্পের মূল অনুমোদনের তারিখই খসড়ায় নেই। এতে এসিসিইএ (অ্যাডভাইজরস কাউন্সিল কমিটি অন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স) কর্তৃক বিবেচ্য প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদনের তারিখ ফাঁকা রাখা হয়েছে। লেজিসলেটিভ বিভাগ বলেছে, ২৯ নভেম্বর ২০২৩ প্রকল্পটি নীতিগত অনুমোদন পায়। এটি এমন একটি ত্রুটি, যা ভবিষ্যৎ আইনি ব্যাখ্যায় জটিলতা তৈরি করতে পারে।

কর-শুল্ক-রাজস্ব বিষয়ে এনবিআরের মতামত লাগবে কিনা সেটি পরীক্ষা করা হয়নি। চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলে কর ও আর্থিক দায়বদ্ধতা স্পষ্ট নয়। যেমন আর্টিকেল ১১.১ (বি), ১৩.৫, ৫২.২ (সি), ৬২.২ ইত্যাদি। এক্ষেত্রে লেজিসলেটিভ বিভাগের মতামত হলো, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ/জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতামত প্রয়োজন কিনা তা যাচাই করতে হবে। এটি বন্দর প্রকল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাজস্ব ভাগাভাগি ও ট্যারিফ কাঠামো সরাসরি রাষ্ট্রীয় আয়ের সঙ্গে যুক্ত।

এছাড়া এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনা বিষয়ে সৌদি আরবভিত্তিক আরএসজিটির সঙ্গে যে পরিচালন চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, তা বাস্তবায়নের সময় দেখা গেছে—চুক্তি সম্পাদনের আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভেটিং না থাকায় ওই চুক্তির বেশকিছু দিক এনবিআরের প্রচলিত বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে। ফলে আরএসজিটি কর্তৃক দীর্ঘদিন পিসিটির কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। এপি মুলারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রিমিয়াম, ইন্স্যুরেন্স, পেমেন্ট কাঠামোতে আর্থিক ধারাগুলোতে অস্পষ্টতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে আর্টিকেল ৪০.২ (বি), ৪০.২ (সি), ৪০.২ (ডি)-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ভেটিং মন্তব্য হলো এসব ধারা রাষ্ট্রের আর্থিক দায়, ঝুঁকি এবং ক্ষতিপূরণ কাঠামো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করে না। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পরামর্শ নেয়ার আবশ্যকতা পরীক্ষা করে দেখার কথা উল্লেখ করা হয়।

কমপেনসেশন ইভেন্ট, আর্টিকেল ৪৭, ইভেন্ট অব ডিফল্ট চুক্তির জরুরি ধারা পুনরায় পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, কোন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে? কোন ঘটনার ফলে অপারেটর ডিফল্ট হিসেবে গণ্য হবে? চুক্তিতে এসব ধারার অংশে পুনঃনিশ্চিত হওয়া উচিত।

পিপিপি আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার বিষয়ে ভেটিং মতামত হলো প্রকল্প চূড়ান্তকরণের যে পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে তা পিপিপি অ্যাক্ট, ২০১৫ এবং পিপিপি প্রকিউরমেন্ট গাইডলাইনস, ২০১৮-এর সঙ্গে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। চুক্তির আর্থিক মূল্য নির্ধারণ (ভ্যালুয়েশন), পরিশোধ পদ্ধতি, মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধি, ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ আর্থিক বিষয়াদির যথার্থতা ও দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত হওয়ার জন্য প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হয়েছে এতে। লেজিসলেটিভ বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তিতে এখনো বিভিন্ন জায়গায় শূন্যস্থান রয়েছে। দেশীয় স্বার্থ যথেষ্ট সুরক্ষিত হয়েছে কিনা, এটি নিশ্চিত করতে হবে।

পিপিপি আইন ও ক্রয় নীতিমালার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন কেবল একটি নীতিগত সম্মতি কিন্তু শর্ত পূরণ না হলে চুক্তি বৈধ হয় না। অন্যদিকে শর্ত পূরণ হলে প্রকল্পকে আবার পিপিপি কমিটি ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া কোনো সরকারি সংস্থা চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনকে চূড়ান্ত অনুমোদন হিসেবে বিবেচনা করলে ভবিষ্যতের পিপিপি প্রকল্পগুলোর শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।

এছাড়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মাসিক অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ‘বাস্তবায়ন সম্পন্ন’ বলতে ভেটিং সম্পন্ন, চূড়ান্ত অনুমোদন ও অন্যান্য আইনি শর্ত পূরণ এগুলোই বোঝানো হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সে ধাপগুলো শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি করেছে।

পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন গতকাল ঢাকায় চুক্তি ম্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বলেন, ‘লালদিয়া দেখিয়ে দিয়েছে পিপিপি শুধু তত্ত্বে নয়, বাস্তবেও কার্যকর। ভবিষ্যতেও আমরা বাস্তবায়নকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়নেই মনোযোগ দেব। আগামী কয়েক বছরে চারটি নতুন সমুদ্রবন্দর বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে আছে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর, একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ও একটি নির্ধারিত মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল।’

বন্দরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল বাংলাদেশের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভাবনাময় প্রকল্প। কিন্তু প্রকল্পটি বাস্তবায়নের শুরুতেই শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া এড়িয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনা দেশের পিপিপি ব্যবস্থায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

আইনি কাঠামো উপেক্ষা করলে কী ঝুঁকি: বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে চুক্তির বৈধতা আদালতে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সরকার পরিবর্তন বা নীতিগত পরিবর্তনে প্রকল্প নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে। এছাড়া অন্য পিপিপি প্রকল্পেও অনিয়মের নজির তৈরি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে পিপিপি কাঠামোর প্রতি আস্থা নষ্ট করবে।

ব্যবসায়ী মহলের মিশ্র প্রতিক্রিয়া: ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো টার্মিনাল নির্মাণকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তারা বলছেন, প্রক্রিয়া সঠিক না হলে ভবিষ্যতে জটিলতা বাড়বে। এ চুক্তির মেয়াদ মূল ৩৩ বছর আর বর্ধিত আরো ১৫ বছর অর্থাৎ মোট ৪৮ বছর। এত দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা আরো বেশি জরুরি। চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে আস্থা ধরে রাখতে হলে সরকারি প্রক্রিয়া শতভাগ মানতে হবে। চুক্তি করার তাড়াহুড়া ব্যাখ্যাযোগ্য নয়। চার দশকেরও বেশি সময়ের চুক্তি।

বন্দরের ব্যাখ্যা: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে। নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের পরামর্শে চুক্তি হয়েছে। তবে শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনকে চূড়ান্ত হিসেবে কীভাবে ব্যাখ্যা করা হলো বন্দর সে বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘লালদিয়া চরে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস একটি নতুন টার্মিনাল নকশা ও নির্মাণ করবে। তিন বছরের মধ্যে বিশ্বমানের টার্মিনাল নির্মাণ হবে লালদিয়ায় এবং এপিএম ৩০ বছর এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে। তবে চুক্তির সময়কালে বাণিজ্যিক, সামাজিক ও পরিবেশগত শর্ত মেনে চললে এ মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এ অপারেটর ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, চীনসহ বিশ্বের সেরা সেরা বন্দরে অপারেট করছে।’

সি-কম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্প দেশের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনাটি নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যদিও বড় প্রকল্পের ভিত্তিই হলো স্বচ্ছতা।’

এদিকে একই অনুষ্ঠানে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল (পিআইটিসি) পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান মেডলগের সঙ্গে ২২ বছর মেয়াদি এ চুক্তিটি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম আনিসুল মিল্লাত।

আরও