সিলেটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হতো স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারি সংস্থা সীমান্তিক প্যাথলজি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিকের ল্যাবে। গত ২৪ জানুয়ারি সেখানে যুক্তরাজ্য ফেরত ১৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। এর মধ্যে ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। অথচ পরদিন একই ব্যক্তিদের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালের ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা করা হলে ২৫ জনেরই ফলাফল নেগেটিভ আসে। এরপর ঢাকার জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) এই ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষা করানো হলে ২৫ জনেরই নেগেটিভ আসে। ফলে সীমান্তিকের করোনার নমুনা পরীক্ষার মান ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় সীমান্তিকে আপাতত বিদেশযাত্রীদের করোনার নমুনা পরীক্ষা করানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া সীমান্তিকের করোনা পরীক্ষার মান যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে যাচাই-বাছাই করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর এর নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষত করোনা শনাক্ত ও চিকিৎসায় নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। এসব অভিযোগে একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে প্রশাসন। রিজেন্ট হাসপাতাল, জেকেজি হেলফকেয়ারের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচার চলাকালীনই গত ২৪ ডিসেম্বর সিলেটের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সীমান্তিককে করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। দেশের রোগীদের পাশাপাশি বিদেশযাত্রীদের করোনা পরীক্ষার অনুমোদন দেয়া হয় এ প্রতিষ্ঠানকে। এরপর নগরের মাছিমপুর এলাকায় জেলা পরিষদের জায়গায় বুথ খুলে করোনার নমুনা সংগ্রহ শুরু করে সীমান্তিক।
সিলেটের সীমান্ত এলাকা জকিগঞ্জ থেকে যাত্রা করা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সীমান্তিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন সেবা খাতে কার্যক্রম পরিচালিত করছে। রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আহমেদ আল কবির এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
সিলেটে নমুনা পরীক্ষা শুরুর পর দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ার আশায় অনেকেই ভিড় করতেন সীমান্তিকের নমুনা সংগ্রহের বুথে। বিশেষত বিদেশযাত্রীরা দ্রুত ও ভোগান্তিহীন পরীক্ষার ও রিপোর্ট পাওয়ার জন্য সীমান্তিকে করোনা পরীক্ষায় আগ্রহী হন। তবে গত ২৪ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়ায় এ প্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে নমুনা জমা দেয়া ব্যক্তিরা পড়েছেন বিপাকে।
জানা যায়, গত ২১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আসা সিলেটের ১৫৭ যাত্রীর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন শেষে ২৪ জানুয়ারি সীমান্তিকের ল্যাবে করোনা শনাক্তকরণ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। তবে ২৫ জানুয়ারি শাবিপ্রবির ল্যাবে এবং ২৬ জানুয়ারি আইইডিসিআরের ল্যাবে এ ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৫ জনেরই করোনা নেগেটিভ আসে।
সীমান্তিকের ল্যাবে পজিটিভ আসা প্রবাসীদের অন্য দুটি ল্যাবে করোনা নেগেটিভ আসায় নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আইইডিসিআরের একটি দল সীমান্তিকের ল্যাব পরিদর্শনও করে। এ অবস্থায় সীমান্তিকের ল্যাবে আপাতত বিদেশযাত্রীদের করোনার নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ তথ্য জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, সীমান্তিকে আপাতত বিদেশযাত্রীদের করোনার নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সীমান্তিক থেকে গত বৃহস্পতিবার আমাদের একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে তাদের নমুনা পরীক্ষার কিটে সমস্যা থাকতে পারে। এজন্য কিট সরবরাহকারী এজেন্ট পরিবর্তন করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে সীমান্তিকের নির্বাহী পরিচালক শামীম আহমদ বলেন, সীমান্তিকের ল্যাব ও কিট আইইডিসিআর থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ফলে এখানে পরীক্ষায় কোনো সমস্যা থাকার কথা না।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দন মন্ডল বলেন, সীমান্তিকের নমুনা পরীক্ষা ভুল না শুদ্ধ এ ব্যাপারে এখনই কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিষেশজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে।