ফেনীর বেন্ডু হাজারী হত্যার বিচার হয়নি দুই যুগেও

ফেনীর আলোচিত মোহাম্মদ হোসেন বেন্ডু হাজারী হত্যার বিচার হয়নি দুই যুগেও। সাক্ষ্য প্রদানসংক্রান্ত জটিলতায় এ হত্যা মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। সর্বশেষ চলতি মাসে সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা এক মাস পিছিয়েছে। এত বছরেও বিচার না পেয়ে তার পরিবার হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নব্বইয়ের দশকে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেন্ডু হাজারী।

ফেনীর আলোচিত মোহাম্মদ হোসেন বেন্ডু হাজারী হত্যার বিচার হয়নি দুই যুগেও। সাক্ষ্য প্রদানসংক্রান্ত জটিলতায় হত্যা মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। সর্বশেষ চলতি মাসে সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা এক মাস পিছিয়েছে। এত বছরেও বিচার না পেয়ে তার পরিবার হতাশা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নব্বইয়ের দশকে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেন্ডু হাজারী।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালের জুন জাতীয় নির্বাচনের দুদিন আগে ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণ পাশে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় বেন্ডু হাজারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতাল পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনায় তার ভাই মীর হোসেন হাজারী বাদী হয়ে ফেনী থানায় ১৭ জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিভিন্ন পর্যায়ে এসআই অরুণ কুমার চন্দ্র, পরিদর্শক মোস্তাক আহমেদ কামরুল হাসান মামলার তদন্ত করেন। ১৯৯৭ সালের ২৬ এপ্রিল পরিদর্শক কামরুল হাসান ২৬ জনকে আসামি করে ফেনীর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৯৯৮ সালের ১৯ আগস্ট মামলায় অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ১৯৯৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজেন্দ্র কুমার ভৌমিক জানান, ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলার তিন তদন্তকারী কর্মকর্তার মধ্যে পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাক আহমেদ সাক্ষ্য দিলেও কামরুল হাসান এসআই অরুণ কুমার চন্দ্র এখনো সাক্ষ্য দেননি। সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ১০ মার্চ মামলায় দুই তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য প্রদানের কথা ছিল। কিন্তু দিন কেউ না আসায় ২৫ এপ্রিল পুনরায় দিন ধার্য করেন অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ সৈয়দ মো. কায়সার মোশারফ ইউসূফ। বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক কামরুল হাসান এসআই অরুণ কুমার চন্দ্রের সাক্ষ্যের জন্য মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

ফেনী জেলা জজকোর্টের পিপি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফেজ আহাম্মদ জানান, আলোচিত মামলায় ২৬ আসামির মধ্যে একজন কারাগারে, নয়জন জামিনে ১৩ জন পলাতক রয়েছেন। মামলার তিনজন আসামি মারা গেছেন।

নিহতের স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা হাসনা আক্তার বানু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বামী হত্যার বিচার নিশ্চিত করার অনেক চেষ্টা করেছি। বয়সের ভারে এখন আর পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুবার দেখা করেছি। আর্থিক সহযোগিতা পেলেও স্বামী হত্যার বিচার পাইনি। এখন বিচারের বিষয়টি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। জগতে না পেলে পরকালে আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার অবশ্যই হবে।

নিহতের বড় ছেলে এসআই বিপ্লব হাজারী জানান, আমার বাবা দুবার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার সময় বাবাকে হত্যা করা হয়। হত্যা আমাদের পুরো পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।

আরও