জাতীয় ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন

ঢাকা দক্ষিণের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে এখানে এসেছি: ইশরাক

তিনি বলেন, ‌‌আমি এখানে এসেছি ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচিত এবং সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর ঘোষিত মেয়র হিসেবে। এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

জাতীয় ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করেছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। শুক্রবার (৬ জুন) সকালে ঈদগাহ মাঠে গিয়ে তিনি নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ইশরাক হোসেন বলেন, ‌‌আমাদের আগামীকালের ঈদের জামাতকে নিরাপদ করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। এটি আমার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে—এই ঈদগাহে কীভাবে কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হচ্ছে, সেটি তদারকি করা।

তিনি বলেন, ‌‌আমি এখানে এসেছি ঢাকা দক্ষিণ সিটির নির্বাচিত এবং সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর ঘোষিত মেয়র হিসেবে। এটি প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, শুধু পর্যবেক্ষণ নয়, এখানে যেসব শ্রমিক কাজ করছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং কিছুটা অনুপ্রেরণা দেয়া দরকার। আমরা ঈদের দিনেও মাঠে থাকব। যারা পরিচ্ছন্নতা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন, তাদের সঙ্গে থেকে সহযোগিতা করব।

এ সময় ইশরাক বলেন, তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) তো কোনো আইনি ফাঁকফোকর পাচ্ছে না। যেটা বলা হচ্ছে তারা নাকি মেয়রদের অপসারণ করেছে- তা সত্য। যারা অনুপস্থিত ছিল তাদের অপসারণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কোথাও একটা চিঠিতে লেখা নেই সব নির্বাচন বাতিল করা হলো। আর যদি হয়েও থাকে আমারটা ছিল সাব জুডিস অর্থাৎ কোনো নির্বাহী আদেশে এটা বাতিল হতে পারে না, অনেক ব্যাখ্যা তারা দেয়ার চেষ্টা করেছে, অনেককেই তারা মাঠে নামিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন। তাতে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে। ওই নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ফলাফল বাতিল চেয়ে ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন ইশরাক হোসেন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গেল ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল সে ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে। এরপর ২৭ এপ্রিল ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তাকে যেন শপথ পড়ানো না হয় সেজন্য গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ। অন্যদিকে ইশরাককে শপথ পড়ানোর দাবিতে ওই দিনই আন্দোলন শুরু করেন তার সমর্থকরা।

আইনি জটিলতার কথা বলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখনো ইশরাককে শপথ পড়ানোর আয়োজন করেনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ দাবি করেন ইশরাক। তার সমর্থকদের আন্দোলনের মধ্যে ‘শপথ না দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে’ দায়ের করা রিট আবেদনটি ২২ মে সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। রিটকারীর এ ধরনের রিট করার এখতিয়ার না থাকার যুক্তিতে আবেদনটি খারিজ করেন হাইকোর্ট।

আরও