বেনাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আসছে কাঁচামরিচ বাজারে কমছে দাম

দেশে অতিবৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল।

তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার আমদানির অনুমতি দেয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। বেনাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে এবং দাম কমতে শুরু করেছে।

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুদিনে ভারতীয় ট্রাকে ৩৮ হাজার ৪০০ কেজি কাঁচামরিচ দেশে এসেছে। এর মধ্যে গত সোমবার এসেছে ৯ হাজার ২০০ কেজি। গতকাল বন্দর দিয়ে প্রবেশ করে ২৯ হাজার ২০০ কেজি কাঁচামরিচ। আনুষ্ঠানিকতা শেষে এ চালানের মরিচগুলো ঢাকায় পাঠানো হয়। আমদানিকারক শিমু এন্টারপ্রাইজ ও রয়েল ইন্টারপ্রাইজ যৌথভাবে এসব চালান এনেছে। বন্দরের খালাস প্রক্রিয়ায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইনস সহযোগিতা করে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন জানান, কাগজপত্রের কাজ দ্রুত শেষ করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমদানিকারক শাহাজান জানান, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে তার খরচ হয়েছে ১৩৫ টাকা। কাস্টমসের হয়রানি ও শুল্ক জটিলতার কারণে আমদানি খরচ বাড়ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সরকারি তথ্যে দেখা যায়, আমদানি করা প্রতি টন কাঁচামরিচের ঘোষিত মূল্য ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম পড়ে প্রায় ২৪ টাকা। এর সঙ্গে কেজিপ্রতি শুল্ক দিতে হয় ৪৫ টাকা।

বেনাপোলের পাশাপাশি দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়েও দুদিন ধরে কাঁচামরিচ আসছে। প্রথম দিন সোমবার হিলি দিয়ে চারটি ট্রাকে ২৯ টন ৪৪০ কেজি মরিচ আমদানি হয়। গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এসেছে ১১ ট্রাকে ৬৫ টন ৪৪০ কেজি। বন্দরে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচ আসার প্রভাবে যশোর ও হিলির স্থানীয় বাজারে দাম কমছে। যশোরের বড় বাজারে দুদিন আগে যে কাঁচামরিচ ৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা গতকাল ৩০০ টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে হিলি বাজারে একদিনের ব্যবধানে কেজিতে এর দাম কমেছে ৯০ টাকা। সোমবার হিলিতে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছিল ২৪০ টাকা কেজি দরে। গতকাল তা নেমে এসেছে ১৫০ টাকায়। দাম কমায় নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘ সাড়ে আট মাস বন্ধ থাকার পর মরিচ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রথম ধাপে নাসিকসহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে কাঁচামরিচ আসছে। সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর আমদানিকারকরা দ্রুত এলসি খোলেন।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন জানান, মরিচের নমুনা পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। হিলির ৮৫টি আইপির বিপরীতে ৩৮ হাজার ৯১০ টন এবং বেনাপোলের ৬৯ জন ব্যবসায়ীকে ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সামনে আমদানি আরো বাড়লে দাম ১০০ টাকার নিচে নেমে আসবে।

(প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য থেকে সংকলিত খবর)

আরও