ঢাকা শহরে রিকশার একটি বড় অংশ এখনো নিবন্ধনের বাইরে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাটারিচালিত ও পায়ে চালিত (প্যাডেল) রিকশা। ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোয় বেশি ঝুঁকছেন তরুণরা। ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর অভিজ্ঞতা নেই ৭৫ শতাংশ চালকের, যা উদ্বেগের কারণ হয়েছে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিকশাগুলোর নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করা গেলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বাড়বে।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ভবনে আয়োজিত ‘শহরে প্যাডেল রিকশা থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশার পরিবর্তন’ নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এসব তথ্য জানানো হয়। ইনোভেশন কনসালটিং এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। ইনোভেশন কনসালটিং হচ্ছে একটি বৈশ্বিক ব্যবস্থাপনা পরামর্শ, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রুবাইয়াত সারওয়ারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট অফিসার (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) মো. সেলিম খান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রফেসর মোসলেহ উদ্দিন হাসান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের প্রফেসর আকতার মাহমুদ, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাইফ হোসেন, ভয়েস ফর রিফর্মের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, সদস্য হাসিবুদ্দিন হোসেন, আকিজ মোটরসের সাধারণ ব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে মো. রুবাইয়াত সারওয়ার জানান, ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নেই ৯৭ দশমিক ৪ শতাংশের। আর প্যাডেল রিকশা নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে ৮৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোতে বেশি ঝুঁকছেন তরুণরা। আগে কখনো ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাননি ৭৫ শতাংশ চালক। এমনকি তারা প্যাডেল রিকশাও চালাননি।
মো. রুবাইয়াত উল্লেখ করেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা প্রধানত ভাড়া ও মাইক্রোফাইন্যান্স ঋণের ওপর নির্ভরশীল, যাদের গড় ঋণের পরিমাণ ৭৯ হাজার ৯২৭ টাকা।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাত্রীরা প্রধানত স্বল্প দূরত্বে এক থেকে তিন কিলোমিটার চলাচলের জন্য রিকশা ব্যবহার করেন। দ্রুত যাতায়াতের কারণে ব্যাটারিচালিত রিকশা বেছে নেন ৮২ শতাংশ যাত্রী। তবে দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। ব্যাটারিচালিত রিকশায় দুর্ঘটনার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এছাড়া যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে দায়ী করছেন ৬২ শতাংশ যাত্রী। এ-জাতীয় রিকশাকে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার পক্ষে জোরালো জনসমর্থন রয়েছে ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশের লোকের। আর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সমর্থন রয়েছে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষের।
অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ মনে করেন, সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হলো একই রাস্তায় বিভিন্ন গতির যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহনের উপস্থিতি। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ঢাকার সড়কগুলোতে যাতায়াতের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং এর সমাধান কেবল রিকশার মধ্যে খুঁজলে ভুল হবে।’
ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট অফিসার মো. সেলিম খান বলেন, ‘সাধারণত মনে করা হয় ঢাকা শহরে যানজটের প্রধান কারণ রিকশা। কিন্তু এ ধারণা সঠিক নয়। রাস্তার ফুটপাত অবৈধ দখল হয়ে থাকায় যানজট তৈরি হয়। যদি রাস্তার সবটুকু অংশ যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা যেত, তবে রিকশা কোনো বাধা হতো না।’